NarayanganjToday

শিরোনাম

চাষাড়ায় বোমা হামলার চার্জশিটভূক্ত ৬ জন কে কোথায়?


চাষাড়ায় বোমা হামলার চার্জশিটভূক্ত ৬ জন কে কোথায়?

১৬ জুন বর্বরোচিত বোমা হামলা মামলায় সম্পূর্ক চার্জশিটে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। বর্তমাসে এই ৬ আসামীর কে কোথায় আছেন? এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ টুডে থেকে খোঁজ খবর নেয়া হয়। জানা গেছে, ৬ জনের দুইজন দেশের কারাগারে ও দুইজন ভারতের কারাগারে এবং একজন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ও অপর একজন দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী।

এদিকে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত শুরু করে সিআইডি। এর এক যুগ পর তথা ২০১৩ সালে ২ মে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা ৯৪৭ পাতার চার্জশিট প্রদান করে। চার্জশিটে বিএনপির ৩১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত করা হয় ৬ জনকে।

চার্জশিটে অভিযুক্তরা হচ্ছেন, ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার ঝিলটুলী গ্রামের নজরুল বারীর ছেলে আনিসুল মোরসালিন এবং তার ভাই মাহবুবুল মোত্তাকিন, ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিড ও মাহবুবুল্লাহ তপনের ছোট ভাই শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, উত্তর চাষাড়া এলাকার ওবায়দুল হক এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেমের ছোট ভাই ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু।

আসামীদের মধ্যে মোরসালিন ও মোত্তাকিন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই ভারতের একটি কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাদের এখনও এদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তারা ১৬ জুন বোমা হামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন।

এছাড়া মুফতি হান্নান ও শাহাদৎউল্লাহ জুয়েল ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযুক্ত। তাদের একজন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং অপরজন মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অপর দুই অভিযুক্ত আসামীর মধ্যে ওবায়দুল হক দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় শায়িত অবস্থায় রয়েছেন এবং শওকত হাসেম শকু ১২ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে প্রায় সময় ওসমান পরিবারের সদস্য সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের সাথেও দেখা যায়। সব থেকে বেশি তাকে সেলিম ওসমানের সাথেই দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, ১৬ জুন চাষাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে বর্বরোচিত বোমা হামলার পর দিন অ্যাড. খোকন সাহা (বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) বাদি হয়ে সদর থানায় দুইটি মামলায় (একটি বিস্ফোরক অন্যটি হত্যা) জেলা বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক (বর্তমানে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা) অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকারকে প্রধান করে বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের ২২ মাস পর ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে উভয় মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট প্রদান করা হয়। রির্পোটে বলা হয়, ‘উল্লেখিত ২৭ জনের কেউই চাষাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে ১৬ জুন ২০০১ সালের বোমা হামলায় জড়িত নয়। যদি ভবিষ্যতে অত্র মামলার তথ্য সম্বলিত ক্লু পাওয়া যায় তবে, মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।’

এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বোমা হামলার ঘটনায় নিহত চা দোকানি হালিমা বেগমের ছেলে আবুল কালাম বাদি হয়ে শামীম ওসমান, তার ভাই নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমান সহ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও এর সহযোগী সংগঠনের ৫৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরবর্তি সময়ে উচ্চ আদালত এ মামলাটি খারিজ করে দেন।

এমন নাটকিয়তায় এবং ২০০৩ সালে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট করার মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই বোমা হামলা মামলাটি চলে যায় গিমাগারে। এর ছয় বছর পরে সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয় এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত শেষ করে তা নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয।

১৫ জুন, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে