NarayanganjToday

শিরোনাম

‘রক্তাক্ত শামীম ওসমান পড়েছিলেন মেঝেতে’


‘রক্তাক্ত শামীম ওসমান পড়েছিলেন মেঝেতে’

“এমন বিভৎস আর বিভিষিকাময় পরিবেশ আমার জীবনে আর কখনও দেখিনি। ওই একবারই দেখেছিলাম নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনায়। এমন বিভৎস দৃশ্য রাব্বুল আলামিন যেন বাকি জীবনে আর না দেখায়।”

২০০১ সালের ১৬ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে চাষাড়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনার স্মৃতিচারন করতে গিয়ে ‘নারায়ণগঞ্জ টুডে’র এ প্রতিবেদকের কাছে এভাবেই কথাগুলো বলেছিলেন ফতুল্লা মডেল থানার সাবেক অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ্ মো. মঞ্জুর কাদের।

তখন তিনি ছিলেন ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)। তৎকালিন পুলিশ সুপারের নির্দেশে বোমা হামলার পরপরই ফতুল্লা থানা থেকে অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সাথে তিনিও ছুটে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ক্ষতবিক্ষত লাশ বহন করতে হয়েছিলো তাকে। আহতদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতাল ছুটোছুটি করেছিলেন শাহ্ মো. মঞ্জুর কাদের।

তিনি বলেন, “আমি তখন এই থানারই (ফতুল্লা মডেল থানা) সাব-ইন্সপেক্টর ছিলাম। সন্ধ্যার পর খবর পেলাম নগরীর চাষাড়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার তখন তার পিছন দিকটাতেই ছিলো জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়। তাৎক্ষনিক সেখানে আমাদের ডাক পড়ে।”

মঞ্জুর কাদের বলেন, “ডাক পেয়েই মুহূর্তে সেখানে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে যে দৃশ্য দেখলাম তাতে কিছু সময়ের জন্য হতভম্ব হয়ে পড়ি। দেখি অফিসটির টিনের চালা উড়ে গেছে আর ভেতরে অসংখ্য মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এ সময় তাদের আত্মচিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাতে দেখি কয়েকজনকে।”

কিছুক্ষণ থেমে দীর্ঘশ^াস ফেলে তিনি আবার বলেন, “পরবর্তীতে নিজেকে সামলে নিয়ে আহতদের নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠাই। এরই মধ্যে নিজেই একজনকে কাঁধে তুলে নিয়ে খানপুর হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে এ ঘটনায় নিহত আরও কয়েকজনের লাশ দেখতে পাই। শুধু তাই নয়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানকেও সেখানে অজ্ঞান ও রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। অর্থাৎ এ ঘটনায় তিনিও মারাত্মকভাবে আহত হন। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।”

মঞ্জুর কাদের বলেন, “খবর পেয়ে খানিক পরেই বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। পাশাপাশি আহত শামীম ওসমানকে এক নজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ছুটে আসতে শুরু করে। তখন শামীম সাহেবের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখানে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করি।”

তিনি আরও বলেন, “ওই সময় এই বোমা হামলাটি ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ বোমা হামলা। এ ঘটনায় বাপ্পি, নজরুল, দেলোয়ার ও পলি বেগমসহ ২০ জন নারী-পুরুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত একজন নারীর পরিচয় আজও মেলেনি। অপরদিকে বাবু চন্দন শীল ও রতন কুমার দাসসহ অনেকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরন করেছেন।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী হামলাকারিদের মুল টার্গেট ছিলেন বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ কৃপায় তিনি বেঁচে গেছেন।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “তদন্ত অনুযায়ি নেপথ্যে থাকা একটি রাজনৈতিক দলের নির্দেশে মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে বোমা হামলাটি করা হয়েছিল।”

১৫ জুন, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে