NarayanganjToday

শিরোনাম

চাষাড়ায় আ.লীগ অফিসে নৃশংস বোমা হামলার ১৯ বছর


চাষাড়ায় আ.লীগ অফিসে নৃশংস বোমা হামলার ১৯ বছর

নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে সবচে’ ঘৃণিত ও ভয়াবহ একটি দিন ১৬ জুনের বোমা হামলা। যা আজও অনেককে করে শিহরিত। ২০০১ সালের এই দিনে চাষাড়ার শহীদ মিনারের পাশে আওয়ামী লীগের অফিসে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মী নারী-পুরুষসহ ২০ নিহত হন।

এদিকে চাষাড়া আওয়ামী লীগের অফিসে বর্বরোচিত বোমা হামলার ঘটনার ১৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে ১৬ জুন। দীর্ঘ এতোটা বছর পরও এই ঘটনার বিচার এখনও পায়নি নিহতের স্বজনেরা। অভিযোগ রয়েছে, বোমা হামলার ঘটনায় ১৯ বছর ধরে কেবল রাজনীতিই হয়েছে, বিচারের দাবিতে জোরালো কোনো পদক্ষেপ আজও কেউ গ্রহণ করেনি।

বোমা হামলা ঘটনার পর দায়ের করা দু’টি মামলায় আদালতে চার্জশীট দেয়া হয়েলেও বিচারকার্য সম্পন্ন করা এখনও পর্যন্ত সম্ভব হয়ে ওঠেনি। প্রতিবছর এ দিনটি ঘটা করে পালন করা ছাড়া আর কিছুই হয়নি। তবে সূত্র বলছে, চার্জশীট প্রদানের পর থেকে এখনও পর্যন্ত স্বাক্ষ্য গ্রহণই শেষ করতে পারেনি। যার কারণে এই মামলার রায় প্রদান করা সম্ভব হয়নি ১৯ বছরেও।

অপরদিকে ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনায় নিহত ২০ জনের মধ্যে একজন নারীর পরিচয় আজও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কে ছিলো সে নারী তার হদিস এখনও পর্যন্ত জানাতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আওয়ামী লীগ দলীয় কেউ।

প্রসঙ্গত, ১৬ জুন বোমা হামলায় ২০জন নিহত হওয়া ছাড়াও আহত হয়েছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ শতাধিক নেতাকর্মী। ওইদিন চাষাড়া শহীদ মিনারের পাশে আওয়ামী লীগ অফিসে এমপি শামীম ওসমানের পূর্ব নির্ধারিত গণসংযোগ কর্মসূচি চলাকালে এ বোমা হামলা চালানো হয়।

বোমা হামলার ঘটনার পরদিনই শহর (বর্তমানে মহানগর) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা করেন। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন।

তবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সবশেষ ২০১৪ সালের ২ মে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে মুফতি হান্নানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। কিন্তু উপযুক্ত সাক্ষী-প্রমাণের অভাবে শেষ হয়নি মামলার বিচারিক কাজ।

১৫ জুন, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে