NarayanganjToday

শিরোনাম

হাজারও মানুষের মাঝে জ্বলজ্বল করে উঠা ‘নক্ষত্র’ তাঁরা


হাজারও মানুষের মাঝে জ্বলজ্বল করে উঠা ‘নক্ষত্র’ তাঁরা

আকাশে তারা থাকে অনেকই। এরমধ্যে কিছু আছে জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠে। সব থেকে উজ্জ্বল যে তারাটি সেটিকে বলা হয়ে থাকে লুব্ধক। এছাড়াও জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠা আরও কিছু উজ্বল নক্ষত্ররাজি রয়েছে লুব্ধকের পরপরই। সেগুলো হচ্ছে, সুহাইল, আলফা, সেন্টোরী, স্বাতী, ভেগা প্রভৃতি।

এসব উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত এই সমাজেও কিছু উজ্জ্বল মানুষ রয়েছে, যারা হাজার হাজার মানুষের মাঝে থেকেও জ্বলজ্বল করে তাদের কর্মকাণ্ডে, আপন মহিমায়। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে তেমনি কয়েকজন মানুষ হলেন, সাংসদ সেলিম ওসমান, সাংসদ শামীম ওসমান, সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন।

জানা গেছে, সাংসদ সেলিম ওসমান চলমান পরিস্থিতিতে তার নির্বাচনী এলাকাসহ এর বাইরেও অসংখ্য মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে চলেছেন। বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে গঠন করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যাদের প্রত্যেককে তিনি দিবেন সাড়ে চার হাজার টাকা করে দিবেন এই সাংসদ। তার পাশাপাশি তার স্ত্রী নাসরিন ওসমানও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অসহায় দুঃস্থ মানুষগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন।

অন্যদিকে সাংসদ শামীম ওসমান ইতোমধ্যে প্রায় বিশ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা দিনে এবং রাতের আঁধারে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। যা বর্তমানেও চলমান রয়েছে। শুধু তিনিই নন, তার স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি ও পুত্র অয়ন ওসমানও করোনা পরিস্থিতিতে দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে চলেছেন।

সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নিজ উদ্যোগে অনেকটা গোপনে কাছের এবং চেনাজানা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তার মতে, ডান হাতে দান করলে বাম হাতকেও জানাতে নেই। তাই তিনি তার দেয়া সহযোগিতার বিষয়টি কখনোই সংবাদ মাধ্যমে আনতে রাজি নন। কিন্তু তিনি তার নিজস্ব লোকদের মাধ্যমে চলমান পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়া পরিবারগুলোর পাশে সামর্থ অনুযায়ী দাঁড়াচ্ছেন। এছাড়াও চেনা-জানা মানুষগুলোকে ফোন দিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনে তাকে জানানো কথাও বলছেন এই সাবেক সাংসদ।

সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী ইতোমধ্যে ফাজিলপুর গ্রামের পুরো পরিবারের এক মাসের দায়িত্ব নিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ধনী গরীব, বাড়িওয়ালা ভাড়াটে নির্বিশেষে পুরো গ্রামের ১৬ শ পরিবারকে তিনি এক মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। তার পক্ষে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন তারই ভাতিজা সাইদুর রহমান রিপন। এছাড়াও মোহাম্মদ আলী এনায়েতনগরবাসীকে সহযোগিতা করতে বর্তমান এবং সাবেক চেয়ারম্যানদেরসহ ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি ত্রাণ তহবিল গঠন করে নিয়মিত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন।

জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ চলমান পরিস্থিতির শুরু দিক থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কর্মহীন হয়ে পড়া গার্মেন্ট শ্রমিক, লেবার, দিনমজুর, ঠেলাচালক, রিকশা চালক, অটো চালক, লোড আনলোড শ্রমিক, ট্রাক চালক, লবণ শ্রমিকসহ এহসান পরিবারের সদস্যদের মাঝে কয়েক দফায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। সূত্রের মতে, প্রায় আট হাজার অসহায় পরিবারের পাশে তিনি দাঁড়িয়েছেন ব্যক্তিগত তহবিল থেকে।

এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে বিএনপির অনেকেই মাঠে নেই। বড় বড় নেতারাও এই অবস্থায় এসে অসহায়দের পাশে দাঁড়ায়নি। সে অবস্থায় মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান ধারাবাহিক ভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন। তিনি প্রতিদিনই শহর ও বন্দরের কোনো না কোনো স্থানে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন।

অন্যদিকে তরুণ রাজনীতিকের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু। চলমান এই পরিস্থিতিতে তিনি অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে তিন ধাপে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। সর্বশেষ ১৮ মে তিন হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছেন এই তরুণ রাজনীতিক। এছাড়াও গোলাম সারোয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে ইফতার সামগ্রীও বিতরণ করে যাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি অত্যন্ত গোপনে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকেও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন যুবলীগের এই সভাপতি।

এছাড়াও ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন দরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও খাদ্য সামগ্রী, বস্ত্র বিতরণ করে চলেছেন। সর্বশেষ তিনি ২১ মে ফতুল্লা রেল স্টেশন এলাকাতে কয়েক শ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এর আগে তিনি দরিদ্রদের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি বিতরণ করেন।

২১, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে