NarayanganjToday

শিরোনাম

করোনা সন্দেহে ভর্তি নেয়নি কেউ, মৃত্যুর পর রিপোর্ট এলো নেগেটিভ


করোনা সন্দেহে ভর্তি নেয়নি কেউ, মৃত্যুর পর রিপোর্ট এলো নেগেটিভ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত! এমন শঙ্কা থেকে কোনো হাসপাতালেই ভর্তি নেয়নি রিমন হোসাইন ওরফে রিমন সাউদ (৩৪) নামের যুবককে। প্রায় তিন ঘণ্টার মত ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ধরণা দিয়েছে। চিকিৎসকদের হাতে পায়ে পর্যন্ত ধরেছে। কিন্তু মন গলেনি কারো। সবার একটাই কথা, সে করোনা আক্রান্ত!

পরবর্তীতে এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতাল ঘুরে যখন কোথাও ভর্তি করানো যায়নি। তখন পরিচিত কিছু মানুষের সাহায্যে ভোরের দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঠাঁই হয় সিদ্ধিরগঞ্জের ৫ নং ওয়ার্ডের সরদারপাড়ার বাসিন্দা ওই যুবকের। কিন্তু ঢামেক হাসপাতালে ভর্তির অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আর এই খবর শোনার পর পুত্র শোক সইতে না পেরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান হাজী ইয়ার হোসেন কন্ট্রাক্টার।

এদিকে যে যুবকটি করোনায় আক্রান্ত সন্দেহ করে কোনো হাসপাতালে তার ভর্তি নেয়নি। সে যুবকটি আদতে করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। তার প্রমাণ দিয়েছে রূপগঞ্জে স্থাপিত পিসিআর ল্যাব। এখান থেকে করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে নেগেটিভ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, আগের থেকেই ছেলেটির অ্যাজমার সমস্যা ছিল। এরমধ্যে জ্বর সর্দিতে করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। পরে, রূপগঞ্জে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয় ৯ মে। কিন্তু ১০ মে দিবাগত রাতে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে রিমন। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। পরে ব্যক্তিগত গাড়ি করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় তিন ঘণ্টা ঘুরে ঘুরে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি রিমনকে।

রিমনের পারিবারিক সূত্র বলছে, রিমনের যখন শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তখন সে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য নিজেই গাড়িতে গিয়ে উঠে বসে। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন চিকিৎসকের হাতে পায়ে পর্যন্ত ধরা হয়। কিন্তু কারো মন গলেনি। কেউ তাকে ভর্তি নিতে চায়নি। সবার একটাই কথা ছিল, রিমন করোনা আক্রান্ত! কিন্তু মৃত্যুর আগে রিমন করোনা পরীক্ষার জন্য যে নমুনা দিয়ে এসেছিল তার রিপোর্ট এসেছে মৃত্যুর পর বিকেলে। সে পজিটিভ ছিল না। তাহলে এই মৃত্যুর দায় কার, এমন প্রশ্ন উঠেছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে।

এদিকে রিমনের মৃত্যুর খবর শোনে শোক সইতে পারেনি তার পিতা হাজী ইয়ার হোসেন কন্ট্রাক্টর। ছেলে মৃত্যুর ঠিক ঘণ্টাখানেকের মধ্যে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনিও মারা যান। একইদিনে পিতা-পুত্রের মৃত্যুর শোকে কিছুতেই ভুলতে পারছে না পরিবার, পরিজনসহ পাড়া প্রতিবেশীরাও। সবাই বলছেন, নির্মমতার বলি হয়েছেন পিতা-পুত্র। হাসপাতালগুলোর কোনোটি যদি সঠিক সময়ে রিমনকে ভর্তি নিত তাহলে তার মৃত্যু হত না। মারা যেতেন না তার পিতাও।

রিমনের পরিবার বলছেন, করোনা পজিটিভ না হয়েও বিভিন্ন হাসপাতালে তিনঘণ্ট ঘুরে রিমনকে কোনো হাসপাতালে ভর্তি করানো গেল না, এই যদি হয় আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা তাহলে মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? তার চাচা ডাক্তারদের পায়ে পর্যন্ত ধরেছেন কিন্তু কোনো হাসপাতাল ছেলেটিকে ভর্তি করেনি।

এমন নির্মমতায় স্থবির স্থানীয় মানুষ। সবাই বলছেন, চিকিৎসার বেহাল অবস্থার কথা। প্রশ্ন উঠেছে, এই দায় কার? রাষ্ট্র কি পারবে এই দায় এড়াতে? ১০ মে দিবাগত রাতে যেসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রিমনকে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে, তাদের বিবেক কী কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবে এই নিষ্ঠুরতার জন্য? নাকি তাদের বিবেক বলতে কিছুই নেই, কসাই?

১২ মে, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে