NarayanganjToday

শিরোনাম

করোনার ‘হটস্পট’ না.গঞ্জে চলছে ১৫৮ গার্মেন্ট, একদিনে ৮৪ আক্রান্তে উদ্বেগ


করোনার ‘হটস্পট’ না.গঞ্জে চলছে ১৫৮ গার্মেন্ট, একদিনে ৮৪ আক্রান্তে উদ্বেগ

করোনার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত নারায়ণগঞ্জে জেলায় ‘লকডাউন’ পরিস্থিতিতেও ফতুল্লার বিসিক ও সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডেসহ কয়েকটি স্থানে অধিকাংশ গার্মেন্টস চালু করা হয়েছে। শারীরিক দূরত্ব না মেনেই সকাল থেকেই নিজ নিজ কর্মস্থলে দিচ্ছেন এসব কারখানার শ্রমিকেরা।

সোমবার থেকে আজ পর্যন্ত দুদিনে ১শ ৫৮টি রপ্তানিমূখী গার্মেন্টস কারখানা সীমিত আকারে খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম।

তিনি জানান, এসব গার্মেন্টস কারখানায় শুধুমাত্র নিটিং, ডাইং ও স্যাম্পল বিভাগ খোলা হলেও করোনা ঝুঁকির কারণে উৎপাদন বিভাগ বন্ধ রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই সীমিত পরিসরে কারখানা খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং আগামী ২ মে থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।

তবে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দাবি, জেলায় করোনার বর্তমান পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত না করেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে শ্রমিকদের। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।  

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ২৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয় বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ। পরবর্তীতে সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে তা ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপর রোববার থেকে সীমিত পরিসরে ধাপে ধাপে কারখানা খোলার সিন্ধান্ত নেয় সংগঠন দুটি।

জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, করোনা সংক্রমণরোধে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে মালিকপক্ষকে বলা হয়েছে। সেই বিধি তাদের মেনে চলার কথা রয়েছে।  

এদিকে জেলা করোনা ফোকাল কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত চব্বিশ ঘন্টায় আরও ৮৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যা গতকালের তুলনায় দ্বিগুন। মৃত্যুর সংখ্যা গতকাল পর্যন্ত ৪২ জন থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪২ জনে।

তবে, লকডাউনের ২০তম দিনেও মানুষ অবাধে চলাচল করছেন। শহরের ৩শ শয্যা হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৮জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বেসরকারি দুটি সেন্টারে আটটি বুথে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব ভঙ্গ করে প্রতিদিন ১৬০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও সেখানে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষ জমায়েত হচ্ছেন।

সচেতন মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জে সার্বিক পরিস্থিতি সব মিলিয়ে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর বিস্তার রোধ করতে হলে প্রশাসনকে আরও কঠোর এবং সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নয়তো জেলার অবস্থা দিন দিন অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়বে।

২৮ এপ্রিল, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে