NarayanganjToday

শিরোনাম

বন্দরে করোনা আক্রান্ত সেই নারীর কেউ ছিল না প্রবাসী!


বন্দরে করোনা আক্রান্ত সেই নারীর কেউ ছিল না প্রবাসী!

বন্দরের রসূলবাগ করোনায় আক্রান্ত নারী কখনো দেশের বাইরে যায়নি। তাদের বাড়ির কেউ বিদেশফেরত নয়। তারপরও তিনি করোনায় আক্রান্ত! এই নারীর মৃত্যুর দুদিন পর করোনাভাইরাস পজিটিভ আসার পর থেকে বিষয়টি এখন সবাইকেই ভাবাচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ৫০ বছর বয়সী ওই নারীর দাফন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়ায় অজানা একটা শঙ্কা রয়েই যাচ্ছে মানুষের মাঝে। কেননা, মৃত্যুর পর এই নারীকে গোসল দিয়েছেন কেউ, হাসপাতাল থেকে লাশ বয়ে বাড়ি এনেছেন তার পরিবারের লোকজন। আক্রান্ত এই নারীর সংস্পর্শে ছিলেন অনেকেই। আবার তার সংস্পর্শে থাকা মানুষগুলোও অন্যদের সংস্পর্শে গিয়েছেন। ফলে, ওই নারীর দাফনের দুদিন পর্যন্ত তার পরিবারের লোকজন অবাধে চলাফেরা করেছে। যা ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের নমুনা শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সংগ্রহ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানিয়েছেন, শুক্রবার মৃত ওই নারীর পরিবার ও আশপাশের লোকজনদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ওই নারীর করোনাভাইরাস পজিটিভ আসার খবরে রাত ১০ টার দিকে রসূলবাগ এলাকা লকডাউন করে দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। এই এলাকায় ১শ পরিবার বসবাস। তারা আগামী ১৪ দিন এই লকডাউন অবস্থায় থাকবেন।

জেলা করোনা ফোকাল পার্সন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর পর ওই নারীর লাশ স্বজনেরা স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করেন। এর দুদিন পরে আইইডিসিআরের পরীক্ষায় মৃত ওই নারীর করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া যায়। ফলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে রসূলবাগ এলাকা ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বন্দর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার জানান, গত ২৯ মার্চ (রোববার) বন্দর উপজেলার সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসূলবাগ এলাকার ৫০ বছর বয়সী ওই নারী শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রন্ত হলে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলে স্বজনরা তা না মেনে ওই দিনই তাকে বাড়িতে ফেরত নিয়ে যান। পরদিন (৩০ মার্চ) ওই নারী আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে কুর্মিটোলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর এ পাঠায়।

তিনি আরও বলেন, স্বজনরা ওই নারীর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর আগে ওই নারীর হার্ট এ্যাটাক হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে স্বজনরা স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ভেবে ওই নারীর দুই ছেলে এবং মেয়ের জামাতাসহ অন্যান্য নিকট আত্মীয়-স্বজন স্থানীয় কবরস্থানে তাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দাফন করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আইইডিসিআর এর পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস পজিটিভ আসলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ওই এলাকা লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে রাত দশটা থেকেই সিভিল সার্জনের নের্তৃত্বে উপজেলা প্রশাসন লকডাইনের প্রস্ততি নিতে থাকেন। পুরো এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে ঘরের ভেতরে থাকতে এবং বের না হতে সতর্ক করে দেয়া হয়। এরমধ্যে স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, কুর্মিটোলা হসপিটালে ওই নারী মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্যাকেট করে দেওয়া হয়েছিল। এবং তা না খোলার জন্য স্বজনদের সতর্ক করা হয়। কিন্তু তারা সেই বিধি নিষেধ না শুনেই বাড়িতে এনে মরদেহ গোসল করিয়ে দাফন কাফন সম্পন্ন করেছিলন।

বন্দর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার জানান, নিহত নারীর বাড়িসহ আশেপাশের একাংশ পরিবারকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। রসূলবাগ এলাকায় প্রবেশের তিনটি রাস্তার দুইটি পথ সরু হওয়ায় টিনের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। মূল সড়কের পাশে আক্রান্ত বাড়ির প্রবেশের গলির মুখে পাচঁজন পুলিশ নিয়মিত টহল দেয়ার জন্য মোতায়ন করা হয়েছে। যে দুটি সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেখানেও দুজন করে পুলিশ নিয়মিত পাহাড়ায় থাকবে। এছাড়া স্থানীয় পাঁচজন সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। পুলিশের পাশপাশি তারাও নজরদারি করবেন যাতে ওই একশ পরিবারের কোনো সদস্য বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন।

এদিকে লকডাউনের আওতায় রাখা পরিবারগুলোর সদস্যদের কাছে বন্দর ইউএনও, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং ওসিসহ সবার মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে। যাতে অন্য কারো শরীরে করোনা রোগের উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক জানাতে পারেন। এর পাশাপাশি প্রত্যেক পরিবারকে চাল ডালসহ যে কোনো সামগ্রী প্রয়োজন হলে ফোন করে জানালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সরবরাহ করা হবে।

৩ এপ্রিল, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে