NarayanganjToday

শিরোনাম

না.গঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে নেই মেয়র-এমপিরা!


না.গঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে নেই মেয়র-এমপিরা!

নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হোটেল রেস্তোঁরাও। নিম্ন আয়ের মানুষের রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ। ফলে করোনা আতঙ্কে এখানকার মানুষের জনজীবন প্রায় বিপর্যন্ত।

তবে, এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে এখনও সেভাবে দাঁড়াচ্ছে না জেলার জনপ্রতিনিধিরা। কেউ কেউ দরিদ্র এই মানুষগুলোর মাঝে জীবানুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেই দায় সারছেন। আসলে দায় সারছেন তা নয়, এখানেও একশ্রেণির মানুষ রাজনীতি করছেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করে আসতে চাইছেন প্রচারণায়। যা পুরোটাই লোক দেখানো।

সচেতন মহল বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দরিদ্র নিম্ন আয়ের মানুষগুলো বিপাকে পড়েছি বেশি। তারা ঘরে থাকলে না খেয়ে মরবে আর বাইরে আসলে করোনায় মরবে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ। তাদের এখন হ্যান্ড স্যানিটাইজারের থেকেও বেশি দরকার চাল ডালসহ নিত্যপণ্য। কেননা, এ শ্রেণির মানুষের প্রতিদিনকার রোজগারের উপরই তাদের খাবার চলে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ পাঁচজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাদের একজন আবার মন্ত্রী। অথচ এরা এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে দূরে সরে আছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন না। তাদেরকে ত্রাণের ব্যবস্থাও করছেন না। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে রয়েছে তীব্র সমালোচনা।

স্থানীয়রা বলছেন, এখানকার পাঁচ এমপি যদি নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান, ত্রাণের ব্যবস্থা যদি করেন তাহলে খেটে খাওয়া এসব মানুষগুলোকে অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হবে না। অথবা কী খাবে, কীভাবে খাবার সংগ্রহ করবে এ নিয়ে চিন্তা অনলেও পুড়তে হবে না। অথচ তারা কেউ নামছে না। আসছেও না তারা। এমনকী তাদের পক্ষ থেকে কাউকে নামানো হয়নি কোথাও। যা নারায়ণগঞ্জের নিম্ন আয়ের মানুষদের দুর্ভাগ্য।

এদিকে করোনার এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে শ্রেণির মানুষ বিশেষ করে জনপ্রতিনিধিরা রাজনীতি শুরু করেছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করে প্রচারণায় আসতে চাইছেন। অথচ নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর এখন সব থেকে বেশি দরকার খাদ্য সামগ্রী। এর নিশ্চয়তা পেলেই তাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরবন্দি থাকতে সমস্যা হত না। কিন্তু এখন তাদেরকে খাদ্যের যোগান দিতে বাইরে বের হতে হচ্ছে।

সচেতন মহল মনে করছেন, এমপিদের পাশাপাশি ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের পক্ষ থেকে যদি নিম্ন আয়ের মানুষগুলোকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার না দিয়ে চাল ডালসহ খাদ্য সামগ্রী, সাথে পরিচ্ছনতার জন্য বাংলা সাবান বিতরণ করলে, সেটা হবে অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ। অথচ তারা দরিদ্রদের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর কিছু মাস্ক বিতরণ করে ব্যাপক ফটোশেসন করেই যাচ্ছে।

২৬ মার্চ, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে