NarayanganjToday

শিরোনাম

একদিকে করোনায় আতঙ্ক অন্যদিকে মুনাফালোভীরা মেতেছে উৎসবে


একদিকে করোনায় আতঙ্ক অন্যদিকে মুনাফালোভীরা মেতেছে উৎসবে

একদিকে করোনা আতঙ্ক অন্যদিকে নিতপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির উৎসবে মেতেছে দোকানিরা। ভয়াবহ এমন পরিস্থিতেও মানুষকে জিম্মি করে চালসহ সকল প্রকার নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। এমন চিত্র নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বত্রই বিরাজমান।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫০ কেজি বস্তা চালের মূল্য একদিনের ব্যবধানে ১ থেকে ২শ টাকা করে বাড়তি রাখা হচ্ছে। তাদের অজুহাত, মিল মালিকেরা চাল দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তাদেরকে বেশি দরে চাল কিনতে হচ্ছে।

শুধু চাল নয়, ডাল, কাঁচাবাজার, শিশু খাদ্যসহ সব কিছুর দামই অতিরিক্ত রাখা হচ্ছে। প্রকারভেদে এসব দ্রব্যের দাম কোনোটিতে ১০ টাকা, কোনোটিতে ২০ টাকা বা তারও অধিক রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দৈনিক মানব জমিনের স্টাফ রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন রবিন এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, করোনাভাইরাসের আতঙ্কে সারা জাতি যখন উদ্বিগ্ন, তখন মুনাফালোভী ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেট পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে বাজারে। নিত্যপন্যের বাজারে জিনিস পত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে।

তিনি আরও লিখেন, ৪দিন আগে ৩০টা ডিমের দাম যেখানে ছিল ২২০ টাকা। তা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। চালের বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এলাকার এক চাল দোকানীর সাথে কথা বলে জানা গেলো মিল মালিকরা চাল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বেশি লাভে বিক্রি করার আশায়। চালের মিলগুলোর বিরুদ্ধে সরকার এখনই ব্যবস্থা না নিলে বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট দেখা দিবে। আর এতে চালের দাম আরও বেড়ে যাবে। নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ সমস্যায় পড়ে যাবে। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে দোকানীরা। আদার কেজি ১৬০ টাকা, রসুন ১৭০ টাকা কেজি। ৫০-৫৫ টাকার লিকুইড হ্যান্ড ওয়াস বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। তাও সংকট, তাই বাজারগুলোতে জরুরী ভিত্তিতে সরকারী সংস্থাগুলোর নজরদারী বাড়ানো উচিৎ বলে মনে করছেন ভোক্তা সাধারণ।

অন্যদিকে ফতুল্লা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক আনিসুজ্জামান অনু একই রকম ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, করোনাভাইরাসের সংবাদে ফতুল্লা মডেল থানার পাশেই ফতুল্লা বাজারে চালের দাম বাড়লো বস্তায় ২০০ টাকা, ৪০ টাকার পিয়াজ ৫০টাকায়, আর ডিমের হালিতে বাড়লো ৪ টাকা। আদা রসুনের দামও বাড়াইয়া দিল দোকানিরা। বলার কেউ নাই আর আমরা পাবলিকও নদু কিনতাছি হুড়মুড়াইয়া।

এদিকে আড়াইহাজার ও সদর উপজেলায় পৃথক দুটি ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরমধ্যে এদিন বিকেলে আড়াইহাজারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল হোসেনের নেতৃত্বে চলা ভ্রাম্যমান আদালত তিন চাল দোকানিকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং নির্দিষ্ট মূল্যে চাল বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়াও একই দিন বিকেলের দিকে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদা বারিক। তিনি চারটি চালের আড়ৎকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরমধ্যে নিতাইগঞ্জের মেসার্স আল আমিন ট্রেডার্সকে ১০ হাজার, পরশ মনি রাইস এজেন্সিকে ২০ হাজার ও মেসার্স সবুজ ট্রেডিংকে ৫ হাজার এবং মেসার্স আনোয়ার ট্রেডার্স ৪০ হাজার জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে এদিন বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে এ আদালত অভিযান চালিয়ে সাত মুদি দোকানিকে ২৮ হাজার টাকা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশনের দায়ে পানসি রেস্টুরেন্টকে ১৫ হাজার টাকা নগদ জরিমানা করা হয়।

১৯ মার্চ, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে