NarayanganjToday

শিরোনাম

চার ইউএনও’র তৎপরতা : আরও দুই প্রবাসীকে জরিমানা


চার ইউএনও’র তৎপরতা : আরও দুই প্রবাসীকে জরিমানা

নারায়ণগঞ্জে সরকারি নির্দেশা মত হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকার অভিযোগে আরও দুই প্রবাসীকে জরিমানা এবং একজনকে সতর্ক করে কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও জেলা সিভিল সার্জন থেকে প্রাপ্ত তালিকা ধরে ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালের দিকে বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়ন এলাকায় একজন জর্ডান ও অপরজন দুবাই প্রাবাসীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুল্কা সরকার।

তিনি বলেছেন, জর্ডান ও দুবাই ফেরত দুজন হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় তাদের একজনকে এক হাজার অপরজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। সিভিল সার্জন থেকে তালিকা পেয়েছি। এছাড়াও তালিকার বাইরেও অনেকে আছেন। আমরা সবাইকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।

এর আগে বন্দর একজন ও সদর উপজেলায় দুইজনসহ মোট তিনজন প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইন নির্দেশনা না মানায় তাদেরকে জরিমানা করা হয়েছিল।

অন্যদিকে আড়াইহাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহাগ হোসেন জানিয়েছেন, এখনও কোনো প্রবাসীকে জরিমানা করা হয়নি। তবে, একজন প্রবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছি। তার সাথে আমাদের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফলোআপ করতে বলা হয়েছে। সিভিল সার্জন থেকে একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে। তালিকা ধরে প্রবাসীদের চিহ্নিতকরণে কাজ শুরু করেছি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম জানিয়েছেন, করোনা প্রতিরোধ আমরা তৎপর রয়েছি। যারা বিদেশ ফেরত তাদের ব্যাপারে সিভিল সার্জন থেকে প্রাপ্ত তালিকা ধরে ধরে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। এখনও পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা মানেনি এমন কাউকে পাইনি। তবে, একজন পেয়েছিলাম যিনি গত একমাস আগে বিদেশ থেকে এসেছেন। তারপরও আমরা তাকে সতর্ক করে দিয়েছি। এছাড়াও আমরা মানুষকে সতর্ক করতে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। মাইকিংও করা হচ্ছে।

সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেছেন, আমরা সিভিল সার্জনের তালিকা পেয়েছি। শনাক্তকরণে কাজ চলছে। এখানে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রবাসীকে জরিমানা করা হয়নি।

এদিকে এ ব্যাপারে জানতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিকের মুঠোফোনে (অফিসিয়াল এবং ব্যক্তিগত) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এরপর তার মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ করে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পুনরায় কল করা হলেও তিনি সে কলটিও রিসিভ করেননি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো ধরণের বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানিয়েছেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে সর্বমোট ৭১ জন ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন চীন ও দুইজন ভারতীয় নাগরিবক। বাকি ৬৮ জন বিদেশ ফেরত। এছাড়াও অন্য যারা বিদেশ ফেরত এসেছেন তাদের ব্যাপারেও তথ্য সংগ্রহ চলছে। উপজেলা ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে বিদেশ ফেরতদের শনাক্তকরণসহ তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করবেন। আর যারা হোম কোয়ারেন্টাইন নির্দেশনা লঙ্ঘন করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৯ মার্চ, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে