NarayanganjToday

শিরোনাম

ভাবির হাত ধরে বিএনপি ছাড়তে পারেন শাহ আলম!


ভাবির হাত ধরে বিএনপি ছাড়তে পারেন শাহ আলম!

শাহ আলম আপদমস্তক একজন ব্যবসায়ী। এর মাঝে তার সাধ জাগে এমপি হওয়ার। দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটতে পারে। সে লক্ষ্যে তিনি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আসেন রাজনীতিতে। যুক্ত হন কল্যাণ পার্টিতে। হয়েছিলেন কোষাধ্যক্ষ। তবে, এ দলে থেকে এমপি তিনি হতে পারবেন না। সে আঁচ করতে পেরে দলছুট দিয়ে চলে আসেন বিএনপিতে। কিং মেকার মোহাম্মদ আলীর বৌদলতে বাগিয়ে নেন মনোনয়নও। তবে, তার সাধা পূরণ হয়নি। আশাও মিটেনি।

তাই বলে শাহ আলম হালও ছাড়েননি। থেকে যান বিএনপিতে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি দখলে নিয়ে নেন ফতুল্লা থানা বিএনপি। কেন্দ্রকে ম্যানেজ করে এই পদটি তিনি নিজের হাতে রাখেন এবং সাধারণ সম্পাদক বানান তার ঘরের লোক নিজের সম্বন্ধি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু দলে। ত্যাগী নেতাকর্মীদেরকে দেখে দেখে মাইনাস করতে থাকেন এ নেতা।

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি পদ ছাড়াও শাহ আলমের দখলে আসে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতির পদটি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্যও হন। নেপথ্যে থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অঘোষিত নিয়ন্ত্রক হওয়ার চেষ্টাও করেন। অনেকাংশে সফলও হন তিনি। দল ভারি করেন। জুটে যায় নজরুল ইসলাম আজাদ, কাজী মনিরুজ্জামান মনির, মামুন মাহমুদদের মতো কয়েকজন। তারা নানা কৌশলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নিয়ন্ত্রণ কর্তা হয়ে উঠেন।

এদিকে ঘনিয়ে আসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দলীয় মনোনয়নও পান শাহ আলম। কিন্তু তাকে আর চূড়ান্ত করা হয়নি। জোটের মনির হোসেন কাশেমীকে শাহ আলমের স্থলে দেয়া হয় চূড়ান্ত মনোনয়ন। অভিমাণ দানা বাঁধে তার ভেতর। তবে, কথিত রয়েছে, ওসমান পরিবারের সাথে বিবাদে জড়াবেন না, তাই তিনি নিজেই নির্বাচন করতে রাজি ছিলেন না। ফলে একরকম বাধ্য হয়ে কাশেমীকে এনে প্রার্থী করা হয়।

ওই নির্বাচনের পর শাহ আলম নিজেকে গুটিয়ে নেন। পদত্যাগ করেন ফতুল্লা থানা এবং জেলা কমিটি থেকে। তবে, চালাকির আশ্রয় নিয়ে থেকে যান কেন্দ্রীয় পদে। যদিও সূত্র বলছে, শাহ আলম বিএনপি ছাড়তে চাইলেও কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা তাকে ছাড়তে চান না। এসব নেতাদের কাছে শাহ আলম সোনার ডিম পারা হাঁস। তাই তারা এখনও ধরে রেখেছেন কুসিদজীবী এই ব্যক্তিকে। জেলা বিএনপির নতুন কমিটিতে তাকে পদায়নের কথাও ভাবছে কেন্দ্র।

এদিকে বিএনপিকে ‘শাহ আলমের নিজের ঘর’ বলেই মনে করেন তার অনুসারি নেতাকর্মীরা। তারা নিশ্চিত তাদের নেতা ঘর ছাড়বেন না। বিএনপিতেই থেকে যাবেন। ফের নির্বাচন করবেন। কিন্তু সে সম্ভাবনা অনেকটাই ফিঁকে বলে মনে করছেন আবার অনেকে। কারো কারো ধারণা, শাহ আলম তার ভাবি অ্যাড. শাহাজাদী নাহিনা নুর (শান্তা)’র হাত ধরে পারি জমাতে পারেন জাতীয় পার্টিতে। তবে, প্রশ্ন জেগেছে কে এই শাহাজাদী নাহিনা নুর (শান্তা), জাতীয় পার্টির সাথেই বা তার সম্পর্ক কী।

সূত্র জানায়, পেশাগতভাবে একজন আইনজীবী শাহাজাদী নাহিনা নুর। তিনি একজন আইসিটি উদ্যোক্তাও। ব্যক্তি জীবনে শাহ আলমের বড় ভাই মোহাম্মদ শাজাহানের স্ত্রী। তবে, শোনা যায় তিনি শাজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি ইতোপূর্বে ছিলেন জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে একই দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন।

সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির অত্যন্ত প্রভাবশালী এই শাহাজাদী নাহিনা নুর। ফলে, আগামীতে বিএনপির অবস্থান সুদৃঢ় না হলে নির্বাচনে সেভাবে লড়াই করতে পারবে না দলটি। আবারও থেকে যাবে ক্ষমতার বাইরে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শাহ আলমের এমপি হওয়ার সম্ভাবনা তিমিরেই রয়ে যাবে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, সে সম্ভবানা যদি শেষতক তৈরিই হয়, তাহলে তিনি তার ভাবির হাত ধরে জাতীয় পার্টিতে চলে যেতে পারেন। বাগিয়ে আনতে পারেন মনোনয়ন। মহাজোটের কোটাতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি হয়েও যেতে পারেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, ২০০৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পূর্বে শাহ আলমের বড় ভাই শাজাহান চেয়েছিলেন শাহ আলম জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করুক। কেননা, শাজাহানও জাতীয় পার্টির সাথে বহু আগের থেকেই সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে, সে যাহোক। শেষতক কী হয়, কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

৪ মার্চ, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে