NarayanganjToday

শিরোনাম

না.গঞ্জ বিএনপির সেক্রেটারি চূড়ান্ত, সিদ্ধান্তহীনতায় সভাপতি


না.গঞ্জ বিএনপির সেক্রেটারি চূড়ান্ত, সিদ্ধান্তহীনতায় সভাপতি

যেকোনো দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা হবে, এমনই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র থেকে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কমিটির অনুমোদন দিবেন।

সূত্র জানায়, নতুন এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে সোনারগাঁয়ের আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। তবে, সভাপতি নিয়ে কিছুটা মতানৈক্য রয়েছে। এই পদে দুজনের নাম কেন্দ্রে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের একজন হলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার এবং অপরজন সাবেক সাংসদ মুহামাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

এদিকে সভাপতি হিসেবে স্থানীয় পর্যায় থেকে তৈমূর আলম খন্দকারের বিরোধী শক্তি না থাকলেও এমন আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই জেলা থেকে গিয়াসউদ্দিন বিরোধী একটি শক্তিশালী পক্ষ কেন্দ্রে লবিং শুরু করেছেন যাতে করে জেলা বিএনপির সভাপতির পদটি কোনো ভাবেই গিয়াসউদ্দিনকে দেওয়া না হয়।

সূত্র মতে, গত এক মাস পূর্বেই জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা খবর পেয়েছেন তাদের কমিটি থাকছে না। কেন্দ্রীয় বিএনপিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে জেলা বিএনপির কমিটি বগলদাবা করছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। জনৈক শিল্পপতি মান্নানের পক্ষে লন্ডনে এবং ঢাকায় দলটির মহাসচিবের সাথে লবিং করেছেন। লন্ডনের গ্রীণ সিগন্যাল পাওয়ার পরই ঢাকা থেকে এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে জেলা বিএনপির কমিটিকে কোনো কারণ ছাড়াই বিলুপ্ত ঘোষণা।

জানা গেছে, বিএনপির মহাসচিব আজহারুল ইসলাম মান্নানকে সভাপতি হওয়ার জন্য বলেছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে মামুনকে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু আজহারুল ইসলাম মান্নানের চাওয়া তিনি সভাপতি হবেন না, সাধারণ সম্পাদকই হবেন। সভাপতি পদে যেই কাউকে দিলেও তার কোনো আপত্তি নেই। সে ক্ষেত্রে তিনি সভাপতি হিসেবে তৈমূর আলম খন্দকার ও গিয়াসউদ্দিনের নাম কেন্দ্রে বলেন। তবে কারো জন্য সুপারিশ করেননি।

এদিকে জেলা বিএনপির কমিটি আজহারুল ইসলাম মান্নান পাচ্ছেন, এমন সংবাদের পর থেকে নড়েচড়ে বসেছেন তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি অতীতের যেকোনো সময়ের থেকে অধিকমাত্রায় মান্নানের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকী তিনি কেন্দ্রে তার জন্য সুপারিশ করার জন্য মান্নাকেও অনুরোধ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা গেছে।

অপরদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সোনার ডিম পারা হাঁস হচ্ছেন মামুন মাহমুদ। তিনি বিগত দিনগুলোতে নূর হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন উপটোকন নিয়ে দিতে মির্জা আলমগীরকে। এমনকী একবার কোরবানির জন্য নূর হোসেনের দেওয়া গরুরও মহাসচিবের বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ফলে মহাসচিব মনেপ্রাণে চান মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদকের পদে রাখতে। কিন্তু মান্নানের একই কথা তিনিই সেক্রেটারি হবেন।

অন্যদিকে সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রে গিয়াসউদ্দিনের নাম আলোচনায় থাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নজরুল ইসলাম আজাদ, কাজী মনিরুজ্জামান এবং শাহ আলমেরা। তারা তীব্রভাবে বিরোধীতা করছেন গিয়াসউদ্দিনের। কেন্দ্রে লবিং করছেন কোনোভাবেই যাতে গিয়াসউদ্দিনকে সভাপতি বানানো না হয়। এবং তাদের পক্ষ থেকে মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক পদে রাখার জন্যও চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, গিয়াসউদ্দিনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী গ্রুপের বিরোধীতার কারণে জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। সে তুলনায় গিয়াসউদ্দিন কিছুটা পিছনে রয়েছেন। তবে, দলীয় পদ পেতে গিয়াসউদ্দিনের পক্ষ থেকে কোথাও কোনো ধরণের লবিং বা গ্রুপিং করা হচ্ছে, এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কাজী মনিরুজ্জামান ও মামুন মাহমুদের নেতৃত্বাধিন জেলা বিএনপির কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রী কমিটি। এদিন দলটির সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিন বছর পূর্বে মনিরকে সভাপতি ও মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপি গঠন করা হয়েছিলো।

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে