NarayanganjToday

শিরোনাম

‘ফুল ফুটক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’


‘ফুল ফুটক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’
ছবির মডেল : ফারিয়া প্রমা

‘ধরণীর বুকে আজ এসেছে ফাগুন, লেগেছে আগুন কৃষ্ণচূড়ার ডালে, মেতেছে মন আজ মহুয়ার সুরে বসন্তেরই কালে...’। আজ যেন প্রিয়সী এই প্রকৃতি তার দখিনা দুয়ার খুলে দিয়েছে। বইছে ফাগুন হাওয়া। কোকিল গাইছে, গাইছে বসন্তবউরি। গাছে গাছে পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার মেলা।

যদি কবি গুরুর ভাষায় বলি তবে, বলতে হয়, ‘আহা, আজি এ বসন্তে এত ফুল ফুটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়...’। অথবা কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের পঙক্তি দিয়ে আউড়িয়ে যদি বলি তবে, ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত...’। হ্যাঁ সত্যি তাই। আজ বসন্ত, পয়লা ফাল্গুন। যার হাত ধরেই ধরণীতে আসে ঋতুরাজ বসন্ত।

বসন্তকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির সাথে সাথে তরুণ হৃদয়ে দোলা লেগেছে। কুসংস্কার, বিভেদ ভুলে নতুন কিছুর প্রত্যাশায় এগিয়ে যাওয়ার অদম্য শক্তির রসদ যোগাতেই বসন্ত। নারায়ণগঞ্জের আনাচানে কানাচে এই বসন্তের ছোঁয়া। পথে পথে ফুলের ডালি সাজিয়ে বসেছে মৌসুমী ফুল বিক্রেতারা। এইদিনে খোঁপায় ফুল না গুজলে কী আর হয়? তাইতো ফুলের কদর বেড়েছে।

এদিকে এই দিনটিকে উপজিব্য করে বন্দরে ‘ফুলের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত সাবদী দিঘরদী এলাকার চাষিরা এখন চরম ব্যস্ত। নানা রঙের ফুলের ফলন হয়েছে এবার তাদের। কম করে হলেও এইদিন এবং পরের দিন তথা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আড়াই কোটি টাকার ফুল বিক্রি করার টার্গেট রয়েছে তাদের।

ফাগুনের মাতাল হাওয়া যখন দোলা দিয়েছে বাংলার নিস্বর্গ প্রকৃতিতে, তখন তরুণপ্রাণে এই দোলা লাগবে না! তা কী করে হয়। নতুন রূপে প্রকৃতিকে সাজাবে ঋতুরাজ বসন্ত। ফুলেল বসন্ত, মধুময় বসন্ত, যৌবনের উদ্দামতা বয়ে আনার বসন্ত আর আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্বেলতায় মন-প্রাণ কেড়ে নেওয়ার দিনইতো আজ।

শীতের খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচ‚ড়া, রাধাচ‚ড়া, নাগলিঙ্গম এখন প্রকৃতির নিয়মে জেগে উঠেছে। মৃদুমন্দা বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা। লাল আর হলুদের বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সাথে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসবে নারায়নগঞ্জবাসী।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তরুণ মনে আবার লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। চারিদিকে যেন সাজ সাজ রব। নতুন কচিপাতার দোলায় দুলছে প্রকৃতি, দুলছে আবেগী মন। আজ নতুন প্রাণেও লেগেছে ফাগুন হাওয়া। বসন্ত আজ প্রত্যেক হৃদয়কে করেছে উচাটন। বসন্তের আগমন মানেই তরুণ হৃদয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার।

এই বসন্ত শুধু অশোক-পলাশ-শিমুলেই উচ্ছ¡াসের রঙ ছড়ায় না, এই ঋতুতে মিশে আছে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য। আমাদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের এক মহাকাব্য। যে কাব্যে শহীদদের রক্ত রঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতির ওপরও রঙ ছড়ায়। ১৯৫২ সালের আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ¡াস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।

বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পয়লা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের উৎসবে গোটা বাঙালির কাছে ব্যাপক সমাদৃত। বাংলায় বসন্ত প্রাণের উৎসবে পরিণত হলেও এর শুরুর একটা ঐতিহ্যময় ইতিহাস আছে।

মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম বসন্ত উৎসব। তখন ঋতুর নাম এবং উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। তাই পয়লা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব কেবল উৎসবে মেতে ওঠার সময় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিসত্তা। সে ঐতিহ্যের ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারলেই বসন্ত উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে পারবে বাঙালি চেতনাকে। প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয় বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে।

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে