NarayanganjToday

শিরোনাম

‘ফুলের রাজ্য’ সাবদিতে এবার টার্গেট বিশ কোটি টাকা


‘ফুলের রাজ্য’ সাবদিতে এবার টার্গেট বিশ কোটি টাকা

বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদি গ্রাম। ছোট্ট এই গ্রামটি এখন সর্বত্র ‘ফুলের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত। এ রাজ্যে রয়েছেন তিন শতাধিক ফুল চাষী। চলতি মৌসুমে এই রাজ্যে ব্যাপক ফুলের চাষ হয়েছে। ব্যস্ত চাষীরা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে তাদের যেন দম ফেলার ফুসরত নেই।

এই মৌসুমে শুধু ফুল চাষীরাই নন, তাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। সবাই এখন দারুণ রকম ব্যস্ত। তাদের টার্গেট এই মৌসুমে কমপক্ষে বিশ কোটি টাকার ফুল বিক্রি। সে লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন বাগান মালিকেরা।

ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদি, দীঘলদি ও মাধবপাশাসহ আট দশটি গ্রামে প্রায় চারশ বিঘা জমিতে বানিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ধরণের ফুলের চাষ হচ্ছে গত এক দশক ধরে। ফুল চাষ করে স্বচ্ছলতার মুখ দেখেছেন এই অঞ্চলের হতদরিদ্র কৃষকেরা।

ফুলের আবাদ করা বেশ কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন রঙের গাঁদা, চেরি, চন্দ্রমল্লিকা, জবা, সূর্যমূখী, গ্যালেরিয়া, ডালিয়া, স্টার, মাম, কাঠমালতি, বেলি, ঝাড়বাড়া ও জিপসিসহ অন্তত চল্লিশ প্রকারের দেশি বিদেশী হরেক রকমের ফুল চাষ হচ্ছে এখানে। দেশের ফুল ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র রাজধানীর শাহবাগের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করছেন এখানকার ফুল ব্যবসায়ীরা। তাই ফেব্রæয়ারি মাসে বিশেষ তিনটি দিবসে ফুলের চাহিদা মেটাতে গত চার পাঁচ মাস ধরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুল চাষীরা।

সময়ের সাথে সাথে গত কয়েক বছর ধরেই সাধারণ মানুষের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এই ফুল চাষ ক্ষেত্রটি। তাজা ফুলের সুবাস নিতে ও মনঃমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত দর্শণার্থী ভীড় করছেন সাবদি দীঘলদি এলাকায়।

দীঘলদি গ্রামের প্রায় বিশটি জমিতে ফুল চাষ করা বাগান মালিক অধীর চন্দ্র হালদার বলেন, এই বছর ফুলের আশাতীত ফলন হয়েছে। সাবদি, দীঘলদি ও মাধবপাশার সবগুলো বাগানে যে ফুলের ফলন হয়েছে তা কমপক্ষে বিশ কোটি টাকা বিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাগান মালিক সুধীর চন্দ্র বলেন, চাহিদা থাকা সত্তে¡ও আর্থিক সমস্যার কারণে ব্যাপকভাবে চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলার কৃষি দফতরে সহযোগিতা চেয়েও কোনো ফলপ্রসু হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকারে পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পেলে এখানকার ফুল বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল কাদির জানান, নারায়ণগঞ্জের ফুল চাষকে আরও প্রসারিত করতে ইতোমধ্যে নানা প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ফুল বাগান মালিকদের সাথে কথা বলেছি। তাদের সমস্যার ব্যাপারে আমরা খোঁজ খবর নিয়েছি। আমরা বাগান মালিকদেরকে বলে এসেছি যদি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে আমরা ব্যবস্থা করব। উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের ঋণ কমিটিতে তাদের বিষয়টি উপস্থাপন করে সহজ শর্তে বাগান মালিকদের ঋণ প্রদানের ব্যাপারে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আরও জানান, সাবদিতে চলতি মৌসুমে ৫০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে বানিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হয়েছে। ফেব্রæয়ারি মাস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে এই ফুল সরবরাহ করা হচ্ছে।

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে