NarayanganjToday

শিরোনাম

‘ক্যারিশম্যাটিক’ নেতা সাংসদ শামীম ওসমান


‘ক্যারিশম্যাটিক’ নেতা সাংসদ শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে নাটকীয়তার মধ্যে ক্যারিশম্যাটিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন কৌশলী রাজনীতিক সাংসদ শামীম ওসমান। মূলত তার ক্যারিশমাতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গ্রুপ দিপু-পলু পরিষদ প্যানেল নির্বাচন থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

তবে, এর আগে বার নির্বাচনকে কেন্দ্র আদালত পাড়ায় গত কদিন ধরেই চলছিলো নানা নাটকীয়তা। এসব নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের প্যানেল তথা শামীম ওসমান সমর্থিত প্যানেলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী ও গণতান্ত্রিক আইনজীবী পরিষদের মনোননীত প্যানলে হিসেবে দিপু-পলু পরিষদ ঘোষণা করা হয়। যা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্যানেল হিসেবে সর্বত্র পরিচিত হয়।

এরও আগে নির্বাচন কমিশন বাতিলের দাবিতে আদালত পাড়ায় আওয়ামী লীগের একাংশ ও বিএনপি আন্দোলন শুরু করেন। এরমধ্যেই চাষাড়া রাইফেল ক্লাবে মোহসীন-মাহবুব প্যানেলকে নিয়ে চার ঘণ্টার রূদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সাংসদ শামীম ওসমান। এই বৈঠকের পরদিনই আদালত পাড়ার দৃশ্যপট পালটে যায়। নাটকীয় ভাবে আন্দোলনে থাকা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাংশ নির্বাচনী মনোনয়ন সংগ্রহ করেন এবং তা দাখিল করে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করেন।

ছবি : রাশেদ চৌধুরী

তবে, আওয়ামী লীগের প্যানেল দুইটি হওয়াতে ভোটের মাঠের বল অনেকটাই বিএনপির কোটে গড়াতে শুরু করার মত পরিবেশ সৃষ্টি হলে শুরু হয় আরও এক নাটক। এই নাটকের মধ্যে ঢুকে যায় একদল সন্ত্রাসী। তারা ১৮ জানুয়ারি দিপু-পলু পরিষদের প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি মহড়া শুরু করেন। এবং এদিন দুজনকে ও পরদিন সকালে একজনকে একটি ক্লাবে এনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগক করাসহ মারধরও করেন বলে অভিযোগ উঠে।

এদিকে এ ঘটনায় রোববার দিনভর যখন আদালত পাড়া সরগরম তখনই নাটকীয়ভাবে নির্বাচন থেকে নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন দিপু-পলু পরিষদের সকল প্রার্থী। এরপরই আদালতে আসেন সাংসদ শামীম ওসমান। তার আগেই আদালত প্রাঙ্গনে এসে জড়ো হন এই নেতার বিশাল কর্মী বাহিনীর একাংশ। এরপরই সাংসদ শামীম ওসমান নিজে উপস্থিত থেকে দিপু-পলু প্যানেলের সবাইকে মোহসীন-মাহবুব প্যানেলের প্রার্থীদের সাথে মিলিয়ে দেন।

এসময় শামীম ওসমান বলেন, রাজনীতি একটা কৌশল, এই কৌশলে অনেক সময় অনেক ধরণের কৌশল করে মাঠ ছাড়তে হয়। দেখতে হয়, কে কোন স্টাইলে খেলতে চায়। অনেক সময় যোগ্য লোক থাকতেও কৌশলের কারণে অনেক অযৌগ্য লোককে নির্বাচনে দিতে হয়। নির্বাচন একটা কৌশল, দলও একটা কৌশল।

তিনি আরও বলেন, প্যানেলের মধ্যে চাইলে কিছু পরিবর্তন করতে পারতাম। কিন্তু সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটা করতে চাইলে হয়তো বিপক্ষ শিবির সুযোগ নিতেও পারে। দিপুর সাথে আমার অনেকবার কথা হয়েছে। সে আমাকে যেভাবে গাইড দিয়েছে, বলেছে, শামীম ভাই আপনি জলদি আসেন। আমি সেভাবেই করেছি।

সাংসদ আরও বলেন, আমরা একটি পরিবার। এই পরিবারের মধ্যে অনেকেই অনেক ভাবে টাকা পয়সা, বন্দুকের নল দেখিয়ে ভাঙনের চেষ্টা করেছে। হয়তো এই পরিবারের মধ্যে একটা আঁচর পড়েছে। কিন্তু কেউ ভাঙতে পারে নাই। আগামীতেও এই পরিবার কেউ ভাঙতে পারবে না। এই নির্বাচনে নিঙ্কুশ জয় নিয়েই প্রমাণ করবো, আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিপু-পলু প্যানেল হচ্ছে বা হবে, সেটা আগের থেকেই জানতে পেরেছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান। তারপরও তিনি মাঠের পরিস্থিতি দেখেছেন। যখনই পরিস্থিতি ভেদে স্পষ্ট হয়ে উঠছিলো, দিপু-পলু প্যানেল এবং মোহসীন-মাহবুব প্যানেল মাঠে থাকলে বিএনপি পন্থী প্যানেলের কোটে বল চলে যাবে, তখনই তিনি ভিন্ন রকম কৌশলের আশ্রয় নিয়ে দিপু-পলু প্যানেলকে নির্বাচন থেকে সরানোর মুখ্য ভূমিকাটাই পালন করেছেন। যা তার রাজনৈতিক ক্যারিশমা বলেই মন্তব্য করেছেন অনেকে।

তবে, কোনো ভাবে যদি দিপু-পলু প্যানেলকে বসানো সম্ভব না হতো তাহলে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি পন্থী আইজনীবী প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। তবে, দিপু-পলু প্যানেলকেই কেন কোরবানি দিতে হলো, মোহসীন-মাহবুব প্যানেলকে কেন নয়, এমন প্রশ্নও উঠেছে।

১৯ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে