NarayanganjToday

শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ চার নিউজ পোর্টাল বন্ধে ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড়


নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ চার নিউজ পোর্টাল বন্ধে ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড়

নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ চারটিসহ পাঁচটি নিউজ পোর্টল বন্ধে সর্বত্র তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে ফেসবুকে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট থেকে শুরু করে সাধারণ ফেসবুকার ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও এ নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেছে।

এদিকে সকল প্রতিবাদকারীর একটাই প্রশ্ন, কী কারণে জেলার এই শীর্ষ পোর্টালগুলো বন্ধ করা হয়েছে, কার স্বার্থে বা এর নেপথ্যে কারা? তবে, পোর্টালগুলো বন্ধের পর এগারদিন অতিবাহিত হলেও পোর্টালগুলো বন্ধের কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না প্রশাসন।

যদিও পোর্টাল সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত বিটিআরসি নারায়ণগঞ্জ টুডে, নিউজ নারায়ণগঞ্জ, প্রেস নারায়ণগঞ্জ, যুগের চিন্তার মত শীর্ষ চারটি পোর্টালসহ সময় নারায়ণগঞ্জ নামক একটি পোর্টালও বাংলাদেশে এক্সসেস বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, বাংলাদেশ ব্যাতিত বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে এসব পোর্টালগুলোতে সহজেই ঢোকা যাচ্ছে। আর বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করতে হলে দরকার হচ্ছে ‘ভিপিএন’র।

এ দিকে এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ টুডে সম্পাদক কলাম লেখক সীমান্ত প্রধান গত ২২ মে থেকে নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ ২৮ মে তিনি আরও একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “নিজের উপর যখন অন্যায় হবে, তখন আওয়াজটা নিজের দিক থেকেই তুলতে হয়। এরপর বিবেকবান, ন্যায় পরায়ণ, অন্যায় বরদাস্ত না করা কিছু না কিছু মানুষও আওয়াজ তোলা শুরু করে। আমার উপর হওয়া অন্যায়ের আওয়াজ আমি তুলেছি। পাশে এসে গলা মিলিয়েছেন আরও অনেকেই। ধীরে ধীরে এখন অনেকেই আওয়াজ তুলতে শুরু করেছেন।

আমি বিশ্বাস করি, যে অন্যায় আমাদের সাথে হয়েছে তা এখনও পর্যন্ত সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানে না। কারণ, আমাদের নিউজ পোর্টালগুলো বন্ধ করার মত সরকারের কাছে তেমন কোনো কারণ নেই। কেননা, আমি রাষ্ট্র বিরোধী, গুজব সৃষ্টি করে মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার মত কোনো পায়তারা করিনি। আমরা ন্যায়, নীতি আর প্রগতিশীলতা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বরাবরই বুকের বা পাশে লালন করি।

সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, সরকারি সিদ্ধান্তে যদি আমাদের পোর্টালগুলো বন্ধ করা হত তাহলে সরকারি নিয়ম মত আমরা তা জানতে পেতাম। তাই মনে প্রাণে বিশ্বাস করি সরকার এমনটা করেনি। তবে, সরকারি লোক পরিচয়ে সরকার ঘনিষ্ঠ কোনো মহল বিটিআরসিতে প্রভাব বিস্তার করে বা ভুল বুঝিয়ে এ কাজন পুরোপুরি অন্যায় ভাবে করিয়েছে বলেই আমরা মনে করছি। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি একটা বিরূপ ধারণা জন্ম নিচ্ছে। সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চাচ্ছে, এটাই ধরে নিচ্ছে মানুষ।

আমরা চাই সরকার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করুক। সরকার এই কাজটি করেনি সে বিশ্বাস আমাদের অক্ষুন্ন থ্কাুক এবং এই কাজটি যে বা যারাই করেছেন তাদের কাছ থেকে কৈফিয়ত নেয়া হোক। সব শেষে একটা কথাই বলব, এই কাজটি যারা করেছে তারা সরকারের ভালো কাজগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ম্লান করার চেষ্টাই করেছে, করছে। এদের ব্যাপারে সরকারকে কঠোর মনোভাব পোষণ করা দরকার। নয়তো খুব দেরী হয়ে যাবে।

আর একটা কথা না বললেই নয়, গত কদিন ধরে আমাদের উপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধ জাতীয় গণমাধ্যমগুলো কোনো রকম ‘রা’ করছে না! কেন তারা নিশ্চুপ বুঝতে পারছি না। তারা কী কোনো কারণে ভীত?”

প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে থেকেই নায়ণগঞ্জের প্রাঠকপ্রিয় ওই পোর্টালগুলোতে বাংলাদেশ থেকে এক্সসেস করা যায়নি। ২২ মে থেকে পোর্টালগুলোতে ঢোকার চেষ্টা করলেই ব্লকড লেখা দেখাচ্ছে।

২৮ মে, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে