NarayanganjToday

শিরোনাম

করোনা আতঙ্ক নয়, যেন ঈদের উৎসবে বাড়ি ফেরা!


করোনা আতঙ্ক নয়, যেন ঈদের উৎসবে বাড়ি ফেরা!

এক

২৬ মার্চ থেকে ৩ দিনের সরকারি ছুটি বিবেচনা করে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে! এই সুযোগে দুই দিন আগে থেকেই কর্মজীবী মানুষ ঈদের ছুটির আমেজে গ্রামে গঞ্জের পথে পা বাড়িয়েছেন! দূরপাল্লার বাহনে তিল ধারনের জায়গা নেই।

দুঃখজনক হলেও সত্য স্বাস্থ্য বিভাগের মূখপাত্র, আইইডিসিইআর এর পরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা আজ স্বীকার করেছেনঃ সীমিত আকারে হলেও কমিউনিটি ট্রান্সফার সম্ভবত হয়েছে! তাহলে আগামী কয়েকদিন পর কি অবস্থা হতে পারে আমাদের দেশে...

 

দুই

প্রবাসী ভাইয়েরা আমাদের সম্মানিত রেমিটেন্স যোদ্ধা। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তারা নিরাপত্তার খোঁজে এবং নাড়ির টানে স্বদেশের পথা পা বাড়ালেন। দেশে প্রত্যাবর্তন করেই বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন তাদের কেউ কেউঃ কোয়ারেন্টাইন আবার কি? আমরা সুস্থ, আমাদের আটকে রাখার অধিকার কারো নাই? তোমাদের সিস্টেমকে ..ক করলাম, ব্লা, ব্লা...

একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেই না বললেন, প্রবাসীদের কেউ কেউ দেশে এসেই "নবাবজাদা" হয়ে উঠেন! গর্জে উঠলো সুশীল সমাজ! আর ১৪ দিন নিজেদের দায়িত্বে বাসায় থাকার শর্তে তারা যে যার মতো বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে গাড়িতে চড়ে আত্মীয় স্বজন, শালা সম্বন্ধী নিয়া হল্লা করতে করতে ছড়িয়ে গেলেন সমগ্র বাংলাদেশ! তারা বিয়ে করেছেন, পার্টি করে বেড়াচ্ছেন, পাড়া মহল্লায় আড্ডা দিচ্ছেন, টি স্টলে চা বিড়ি ফুকছেন...

এ পর্যন্ত যতজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন তারা করোনা মহামারীতে জর্জরিত দেশ থেকে আগত কিংবা তাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন! অর্থাৎ আমাদের নীতিনির্ধারক মহলের মারাত্মক অদূরদর্শীতা এবং প্রবাসী ভাইদের আবেগপ্রবণ হয়ে করা ভুলের মাশুল দেয়ার মুখোমুখি আজ ১৮ কোটি মানুষ!

 

তিন

যখন কানাঘোষা শোনা যাচ্ছিলোঃ যে কোন সময় বাংলাদেশে সনাক্ত হতে পারে কোরানা আক্রান্ত রোগী, আর তার আগে থেকেই গুজবের ডালপালা গজিয়েছে! আর যখন ঘোষণা এলো তখনো আমাদের টনক নড়েনি! যখন মৃত্যুর খবর এলো, একজন নার্স ও রোহানের কথিত বাবার অডিও ইনবক্সে ভাইরাল হলো তখন মানুষ হুমরি খেয়ে পড়লো চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা ও যোগার যন্ত্র কেমন তার উপর! আর তখন জাতি জেনে চিন্তায় অস্থির হলো যে আমরা এখনো প্রস্তুত নই, আমাদের টেস্ট কিট অপর্যাপ্ত, ফ্রন্ট লাইনে সেবা প্রদানকারী ডাক্তারদের পিপিই না পেয়ে খুমেক এ ডাক্তার সংকট! অথচ আমরা বেশ ভালো সময় পেয়েছিলাম!

এখন বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী কিছু প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। আর সরকারি পিপিই গায়ে চাপিয়ে ডাক্তার নন এমন কিছু মানুষের স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকের নজরে এসেছে যা অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং যা ডাক্তার সমাজকে ক্ষুব্ধ করেছে ভীষণ ভাবে।

 

চার

সুখবর হচ্ছে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি তবে আক্রান্তদের মধ্যে প্রবাস ফেরত একজন স্বজন মৃত্যু বরন করেছেন। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যাঃ ৩৯ আর মৃত্যুঃ ৫ তাহলে আক্রান্তদের অনুপাতে মৃত্যু হার কিন্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

 

পাচঁ

লক ডাউন হবে কি হবে না ঘোষণা না এলেও এর মধ্যেই নিত্যপণ্যের মজুদ করছেন একদল মানুষ। জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার এমনকি ফার্মেসী ঘুরেও মানুষ স্যাভলন পাচ্ছে না। আমি যে দোকানে ডিম কিনতে যাই সেখান গতকাল ডিম পাইনি। আমরা কি একবার শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষের কথা ভেবেছি? এদের হাতে কি পর্যাপ্ত অর্থ আছে? মাসের শেষ দিকে চাকুরিজীবী মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তাদের কথা কি আমরা ভাববো না...

 

ছয়

রাজনৈতিক কূটতর্ক, গুজব ও বিতর্কের সময় এটা নয়। self isolation এ থাকুন, social distance বজায় রাখুন এবং করোনার লক্ষণ দেখা দিলে নিজ উদ্যোগে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনুন।

 

সাত

এই মুহুর্তে নিজেদের নিরাপদ রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর এর মাধ্যমেই আমি আপনি সমাজে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পারি।

এই মহাদুর্যোগে আসুন নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসে প্রার্থনা করি, Stay at home নিশ্চিত করি এবং অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলি।

এই দুর্যোগে এইবার অন্তত প্রমান করি আসুনঃ আমরা উশৃঙ্খল নই, আমরাও সামাজিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম এবং সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবজাতির প্রতি আমাদেরও দায়বদ্ধতা আছে।

কোভিভ-১৯: তোমকে পরাজিত করবো সবাই মিলে। বেচেঁ থাকলে আড্ডা, সামাজিকতা সব হবে। এখন দয়া করে ঘরে থাকুন...

লেখক : সমাজকর্মী

উপরে