NarayanganjToday

শিরোনাম

‘৫ এমপির দুলাভাই শামীম ভাই শামীম ভাই’


‘৫ এমপির দুলাভাই শামীম ভাই শামীম ভাই’

যত সময় গড়াচ্ছে ততই সাংসদ শামীম ওসমাসের ‘অস্ত্র’ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ডালপালা বিস্তৃত হচ্ছে। চলমান এই ইস্যু নিয়ে ফেসবুকে নিজের মতামত তুলে ধরেছিলেন সাবেক ছাত্রল সভাপতি ভিপি মাসুকুল ইসলাম। অস্ত্র নিয়ে সত্য বলার কারণে তিনি সাংসদ শামীম ওসমানেও ধন্যবাদও জানিয়েছন।

এদিকে সাংসদকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাজীবের ওই মন্তব্যের পর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ পাল্টা একটি মন্তব্য করেছেন। সেখানে তিনি মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সাথে তিনি তার ফেসবুকের ওই মন্ত্যবে দাবি করেছেন, ২০০১-৫ সাল পর্যন্ত তোলারাম কলেজে মাদক, ধর্ষণ, ছাত্রীদের নির্যাতন চালানো হত। এর মূলহোতা হিসেবে তিনি রাজবীকে অভিযুক্ত করেন।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল তিনটার কিছু পর হাবিবুর রহমান রিয়াদ তার ফেসবুক আইডিতে রাজীবের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে লিখেন, “সাবেক সন্ত্রাসী ছাত্রদল নেতা রাজিব সাহেবকে বলবো :- ১৯৭৫ সালে জাতিরজনক কে হত্যার পরে মাদক,অস্ত্র,সন্ত্রাস, গ্রেনেড হামলার ত্রাস তৈরি করেছিল বিএনপি। ১৯৯১ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের কেউ বাসা থেকে বের হতে পারতোনা, এলাকায় আসতে পারতো না বিএনপির সন্ত্রাসীদের কারনে।

নারায়ণগঞ্জে অস্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছিল বিএনপি, রাজিবগং।জননেতা এ কে এম শামীম ওসমান সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসিদের নিয়ে এসব সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করেছেন। তখন সাধারন মানুষ স্লোগান দিত বিএনপির ৫ এমপির দুলাভাই শামীম ভাই শামীম ভাই। বিএনপির সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলায় ২০০১ সালে বিএনপির মদদে চাষাড়া আওয়ামীলীগ অফিসে আরডিএক্স গ্রেনেড হামলা, ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলাই প্রমান করে বিএনপি কত বড় সন্ত্রাসী দল। এতে প্রান দিয়েছে অনেক মানুষ।

বিএনপির স্বররাস্ট্র মন্ত্রী বাবর, তারেক রহমান ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও গ্রেনেড হামলা মামলার মুল আসামী।

রাজিব হচ্ছেন ওই দলের নেতা তার ইতিহাস সবাই জানে। ২০০১-০৫ সাল তোলারাম কলেজে করেছিল মাদক, ধর্ষন, ছাত্রছাত্রীদের নির্যাতন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানা এসব অপকর্মের মূল হোতা ছিলেন রাজিব। বছরখানেক আগে ডিবির হাতে মাদকদ্রব্য ও ফেন্সিডিল নিয়ে গ্রেফতার হয়ে জেল খাটেন। শহরে অনেকেই জানে মাদক ও ফেন্সিডিল তাদের নিত্যদিনের সংঙ্গী। এখন তিনি খুব সুশীল কথা বলেন ব্যপারটা হাস্যকর। রাজিব সাহেবদের অপকর্মের ফাইল খুললে হয়তো শহরে আর থাকা হবে না। আপনাদের অপকর্ম কলেজের শিক্ষার্থীরা ভুলেনি। তাই আউট।

শামীম ওসমান এমপি মহোদয় বুঝিয়েছেন সেইসব সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করে একটি শান্তিময় নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলেছি। আর সাবেক সন্ত্রাসী ছাত্রদল নেতা তার ভুল ব্যাখ্যায় মেতে উঠেছেন।তাদের দলের এটাই মুল শিক্ষা সেটা হল মিথ্যাচার।”

প্রসঙ্গত, ১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ এর আলোচনা সভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শামীম ওসমান। সেখানে তিনি বলেন, “২০০১ সালের আগে জেলা পুলিশ ফোর্সের কাছে যত অস্ত্র না ছিল, তার থেকে বেশি অস্ত্র একা আমার নিজের কাছেই ছিল।”

সাংসদের ওই বক্তব্যের পর সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এক পত্রিকায় তিনি প্যাকেট ভরে সব অবৈধ অস্ত্র দিয়েছেন জানালেও অপর তিনটি পত্রিকায় সাংসদের বরাত দিয়ে লিখেছিল, ‘তিনি অস্ত্র বলতে বিশাল কর্মী বাহিনী বুঝিয়েছিলেন তার বক্তব্যে।’ এ নিয়ে যখন শহর ও শহরতলীতে কৌতুহলী মানুষ যখন ‘অস্ত্র’ না ‘কর্মী বাহিনী’ নিয়ে দ্বিধান্বিত।

তখন রাজীবও দ্বিধান্বিত হয়ে এ নিয়ে প্রশ্ন রাখেন এবং নিজের মতামত তুলে ধরে একটি মন্তব্য করেন নিজের ফেসবুকে। অবশ্য তিনি ওই মন্তব্যে সাংসদের কাছে অস্ত্র ছিল, এ বক্তব্যটুকু সত্য বলেই দাবি করেছেন এবং এই সত্য কথাটুকু অকপটে বলার জন্য সাংসদ শামীম ওসমানকে তিনি ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি অন্যরাও যেন সত্য অকপটে স্বীকার করার সাহস পায় সেটির জন্য তিনি কামনা করেন।

৪ মার্চ, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে