NarayanganjToday

শিরোনাম

কুখ্যাত রাজাকারের বাচ্চা ভাগনিকে দিয়ে অপদস্থ করার চেষ্টা করেছে : মালা


কুখ্যাত রাজাকারের বাচ্চা ভাগনিকে দিয়ে অপদস্থ করার চেষ্টা করেছে : মালা

এবার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলকে কুখ্যাত রাজাকারের বাচ্চা বলে উল্লেখ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদা মালা। একই সাথে তিনি কাজলের বিরুদ্ধে পেটানোর হুমকি এবং তার ভাগনি মহানগর যুব মহিলা লীগের আহ্বায় অ্যাড. সুইটি ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অপদস্থ, হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে মাহমুদা মালা তার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্টে ঘটনার বর্ণনা করে এই অভিযোগ তুলেন।

তবে, এ অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে খালেদ হায়দার খান কাজলের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। একই সাথে তার ভাগনি সুইটি ইয়াসমিনের মুঠোফোনে কল করা হলেও সেটি সচল পাওয়া যায়নি। ফলে এ প্রসঙ্গে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

মাহমুদা মালা তার পোস্টে দাবি করেছেন, ২৮ জানুয়ারি আদালতের দোতলায় খালেদ হায়দার খান কাজল তার ভাগনি সুইটি ইয়াসমিনকে দিয়ে অপদস্থ করার চেষ্টা করেন। এবং খালেদা হায়দার খান কাজল তাকে প্রকাশ্যে পেটানোর হুমকি দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন (২৯ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) রুমে। এদিন কাজল তার নাম ধরেই বলছিলেন, মেঘলা, মনি এবং বিপ্লবকে এনেছে তাকে মারধর করার জন্য।

তবে, এ প্রসঙ্গে পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকনের সঙ্গে যোগারযাগ করা হলে তিনি নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে বলেন, “সেদিন ভোটগ্রহণ চলছিলো। আমি সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা দশ মিনিট পর্যন্ত আমার রুমে ছিলাম না। বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ আমাকে এ প্রসঙ্গে কিছু বলেওনি।”

মাহমুদা মালা সাংসদ শামীম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “আপনার কাছে বিনীত নিবেদন, যদি আপনার আমার কোন কাজ পছন্দ না হয় আমাকে আপনি ধমক দিতে পারেন চাইলে চড় দিতে পারেন, কিন্তু কুখ্যাত রাজাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে কাজল আমাকে তার ভাগনীকে ও তার সহযোগীকে দিয়ে ২৮/১/২০২০ তারিখে আদালতের দোতলায় আমাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করে কিন্তু আমার সিনিয়র ও অন্যান্য আইনজীবীর কারনে দৌড়ে সে পালিয়ে যায়। রাজাকারের বাচ্চা প্রকাশ্যে আদালতে আমাকে পিটানোর হুমকি দেয়। পিপির রুমে ২৯/১ তারিখে দুপুর ১.৩০ মিনিটে সে আমার নাম ধরে কাজল ভাই বলে সে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দুটা মেয়ে এনেছে মেঘলা আর মনি এবং তল্লার বিপ্লবকে এনেছে আমাকে পিটানো জন্য। যদিও বিপ্লবের সাথে আমার দেখা হয়েছে সে আমার পিছনে পিছনে এসেছে কিন্তু কোন কথা বলেনি।”

মালা আরও লিখেছেন, “২০১৭ সালে এই কাজল রাইফেল ক্লাবের ভিতরে শিউলি নামে একটি মেয়েকে ঠিক করে আমাকে পিটানোর জন্য। মেয়েটি আমাকে পরে বলে দিয়েছে। তার জোড় সে আপনার বন্ধু।”

মালা লিখেন, “আওয়ামী লীগের মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক আমি, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আর পিটায় রাজাকারের বাচ্চা। আমার আত্মহত্যা করা উচিৎ। আপনি বঙ্গবন্ধুর সহোচর, ভাষা সৈনিক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শামসুজ্জোহা সাহেবের সন্তান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদরের ছোট ভাই, আপনি থাকতে আমি রাজাকারের ছেলের হুমকী খাচ্ছি যেটা আমি মানতে পারছিনা, আপনি হয়তো জানেননা মুনতাসির মামুন, রীতা ভৌমকের বইসহ অনেক বইতে এই রাজাকারের নাম লিপিবদ্ধ আছে। আমি একজন আইনজীবী আমি তার জন্য আদালতে যেতে পারছিনা, আমি ভীতু নই, কিন্তু চোরাগুপ্তা হামলা হলে কিংবা রাজাকারের ছেলে যেহেতু কোন জঙ্গি হামলা করবে কারন সাপ আর রাজাকার এদের বিশ্বাস করা যায়না। আমি জানি আপনি এর বিহিত করবেন। কারন আপনি একজন দেশপ্রেমিক মানুষ।”

৩১ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে