NarayanganjToday

শিরোনাম

বিক্ষোভ নাকি কনের বাড়ির গেটে বরযাত্রীদের অনুনয়?


বিক্ষোভ নাকি কনের বাড়ির গেটে বরযাত্রীদের অনুনয়?

বরযাত্রী কনে বাড়ি প্রবেশ করবে। এমন সময় গেটের কাছে তাদের আটকে দেওয়া হয়। চাওয়া হয় সেলামি। এ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা আর মৃদ তর্ক-বিতর্কও হয়। এমন দৃশ্য কম বেশি সবাই অবলোকন করেছে। কিন্তু রাজনীতির মাঠে প্রায় এক ধরণের দৃশ্য আগে পরে তেমন দেখা হয়নি। তবে, এবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কল্যাণে তা দেখেছেন অনেকেই।

শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) ছিল খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজের প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে এদিন বেলা ১১ টার দিকে বিক্ষোভে করবে মহানগর বিএনপি। এমনই ঘোষণা করা হয়েছিল দলটির পক্ষ থেকে। ঘোষণা মতে তারা নেমেছিলনও।

গুটি কয়েকজন লোক ছিল ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে। অগ্রভাগে ছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সহসভাপতি অ্যাড. জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সবুর সেন্টু এবং আবু আল ইউসুফ খান টিপু। পিছনের দিকে কয়েকজন ছিলেন অপরিচত মুখ। কারো কারো মতে, এদের অনেকেই ছিলেন পথচারী। এরা মিছলের পিছনের অংশে হেঁটে আসার সময় ক্যামারাবন্দি হয়ে যাওয়াতে গোটা মিছিলে লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২০ জনের কাছে।

ওই মিছিলটি ইসলাম হার্ট সেন্টারের পার্শ্ববর্তী রেললাইন থেকে শুরু করে ভাষা সৈনিক রোডের দিকে আসছিলো। লক্ষ্য প্যারাডাইজ ক্যাসেলের সামনে দাঁড়িয়ে দুই মিনিটের একটি ফটোশেসন। কিন্তু বিধিবাম। মহানগর বিএনপির গোটা দশ একের এই মিছিলটি শুরু হওয়ার পরপরই প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ জনের একটি পুলিশের টিম সেটিকে আটকে দেয়। আর তখনই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঠিক করে রাখা ক্যামারায় বন্দি হন ফটোশেসন করতে মাঠে নামা নেতারা।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপির মিছিল আটকে দেওয়ার দৃশ্যটি দেখে অনেকেই হাসাহাসি করছিলেন। কাটছিলেন টিপ্পনীও। প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলছিলেন, বিএনপির মিছিলটিকে যখন পুলিশ আটকে দিল তখন মনে হয়েছিল এটি বরযাত্রী আর কনের বাড়ির লোকজনদের গেট ধরার দৃশ্য। এটিএম কামাল ও জাকির হোসেন হাসিহাসি মুখে অনুনয় করছিলেন তাদেরকে দুই মিনিট সময় দেওয়ার। দু একটি কথা বলবেন আর কয়েকটি ছবি তুলবেন। কিন্তু শেষতক সেটিও হয়ে উঠেনি।

তবে, যে কটি ছবি এরমধ্যে তারা পেয়েছিলেন সেগুলোকেই দলটির নেতাকর্মীরা পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তির ছবি বলেই চালিয়ে দিচ্ছেন। সূত্র বলছে, মহানগর বিএনপির এমন দৃশ্য বহু পুরনো। তারা গুটি কয়েকজন নিয়ে মাঠে নামেনই কয়েকটি ছবি তোলার লক্ষ্যে। কখনো দলটির সভাপতি আবুল কালাম থাকেন কখনো থাকেনই না।

এদিকে বিক্ষোভ শব্দের অর্থ যা তার রেশমাত্রও থাকে না তাদের আচরণে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এভাবে ফটোসেশনের রাজনীতি করে এই দলটি আর কতদূর যাবে? এভাবে কী তারা কারামুক্ত করতে পারবেন দলটির চেয়ারপার্সনকে?

অপরদিকে সাধারণ মানুষ বলছেন, বিএনপির লিয়াজোঁ করা নেতা আর মেরুদণ্ডহীন নেতৃত্বের কারণে গত দুবছরেও খালেদা জিয়ার জামিন নিশ্চিত করতে পারেনি তারা। মূলত এরা মনেপ্রাণে চায় না খালেদা জিয়া কারামুক্ত হোক। আর সে যদি তারা চাইতোই তাহলে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বাইরে তারা সরকারি দলের সাথে লিয়াজোঁ করে টিকে থাকতেন না।

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে