NarayanganjToday

শিরোনাম

এক মুহূর্তের গ্যারান্টি নাই : শামীম ওসমান


এক মুহূর্তের গ্যারান্টি নাই : শামীম ওসমান

সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, আজকে না হয় কালকে আমাদের সবাইকে যেতেই হবে। দুণিয়াতে আমরা অল্প কয়দিনের জন্য এসছি। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। এই পরীক্ষা শেষ হলে হয়তো বা কেউ ভালো রেজাল্ট নিয়ে যাবো, কেউ বা খারাপ রেজাল্ট নিয়ে যাবো। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল। তিনি নিজেই বলেছেন, তুমি ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করার জন্য বসে আছি। তাই আমি অনুরোধ করবো, আমরা সবাই সবার জন্য ক্ষমা চাইবো।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে উত্তর চাষাড়ায় হীরা মহলে ভাষা সৈনিক শামসুজ্জোহার মৃত্যুবাষির্কীও দোয়া ও মাহফিলপূর্ব আলোচনায় ওই কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি উপস্থিত ইমামকে শুধু তার পিতা শামসুজ্জোহার জন্য নয়, উপস্থিত সকলের পরিবারের যারা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের জন্য দোয়া করার অনুরোধ করেন।

শামসুজ্জোহার মৃত্যু বার্ষিকীর দোয়া মাহফিলের কারণে মহাল্লাবাসীদের কিছুটা সমস্যা হয়। গাড়ি ঢুকতে ও বের হতে পারে না কয়েক ঘণ্টা। এমনটা জানিয়ে শামীম ওসমান মহল্লাবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আমরা এই মহল্লারই মানুষ। এই মহল্লা আমাদেরই পরিবার। আমার বাবা, বড় ভাই নাসিম ওসমান, আমি এবং সেলিম ভাই, আমরা যারাই সৃষ্টি হয়েছি এই মহল্লাবাসী এর জন্য সব থেকে বেশি সেক্রিফাইজ করেছেন আমাদের জন্য। আমাদের জন্য তারা নির্যাতিত হয়েছেন। তাই আমরা মনে করি, এই মহল্লার প্রতিটি বাড়ি-ঘরই আমাদের বাড়ি-ঘর। এখানকার প্রত্যেকটা পরিবারই আমাদের পরিবার। তাই পরিবারের সদস্য হিসেবে দাবি রেখেই প্রতি বছর বছর এই কষ্টটা আমরা দিই।

শামীম ওসমান বলেন, এক মুহূর্তের গ্যারান্টি নাই। আগামীকাল আমি থাকবো কিনা, তা আমি জানি না। আমার পরিবারও জানে না। মৃত্যুর পর ক্ষমা চাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। মৃত্যুর পরে কিন্তু নাম হারিয়ে ফেলে। তখন কিন্তু কেউ বলে না, অমুকে কোথায়। তখন শুধু বলে লাশ কোথায়। তাই আমি আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অগ্রীম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিবেন।

তিনি বলেন, দোয়া করবেন আমাদের জন্য। এই এমপি মন্ত্রী পদপদবী না। অইটুকুর জন্য দোয়া করবেন, যাতে যে কারণে আল্লাহ আমাদেরকে দুণিয়াতে পাঠিয়েছেন, নবীজী যে পথ দেখিয়েছেন, সে পথ অনুসরণ করে যাতে দুণিয়া থেকে যেতে পারি। এই শিক্ষাটাও বাবা মা আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন।

দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রয়াত শামসুজ্জোহার মেজ ছেলে সাংসদ সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দু হাই, সহসভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, প্রচার সম্পাদক এমএ রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, শামীম ওসমানপুত্র অয়ন ওসমান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান প্রমূখ।

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে