NarayanganjToday

শিরোনাম

এখন চারিদিকেই আ.লীগ, সেদিন এত লোক ছিল না : শামীম ওসমান


এখন চারিদিকেই আ.লীগ, সেদিন এত লোক ছিল না : শামীম ওসমান

রাজনীতি এখন রাজনীতিবীদদের কাছে অনেকটা অনুপস্থিত মন্তব্য করে সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, এখন অনেকেই রাজনীতি করেন মঞ্চের পাশে এসে চেহারা দেখানোর জন্য। এবং সেই চেহারাটাকে পুঁজি করে নিজের আর্থিক মুনাফার জন্য রাজনীতি করেন। আমি স্পষ্টভাষী লোক। স্পষ্ট ভাষায়া কথা বলতে চাই।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে বন্দর কদমরসূল কবিলের মোড় এলাকায় জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ এর স্মরণ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি ওই কথাগুলো বলেন। স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সেলিম ওসমান।

তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন জায়গায় ভালো মানুষ এবং খারাপ মানুষ যেমন আছেন, রাজনীতিবীদদের মধ্যেও ভালো-খারাপ আছে। আমি বিশ্বাস করি, আমার চেয়েও হাজার গুণ বেশি কোয়ালিটি ছিল এই শুক্কুর মাহমুদ ভাইয়ের। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করি।

ত্রিশ পয়ত্রিশ আগের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, পৌর পাঠাগারে সম্মেলন নিয়ে একটা গÐগোল হচ্ছে। আমাদের আভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে সেই গোÐগোল। শ্রমিক লীগের কমিটিকে কেন্দ্র করে। সেখানে আমি দেখলাম, সমস্ত মানুষ চায় শুক্কুর মাহমুদ ভাই জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি হোক। কিন্তু কিছু সংখ্যক মানুষ চায়নি, এপাড়ের লোক ওপাড়ে গিয়ে সভাপতি হোক। সেই লোকগুলি কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির ধারাতে নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগের নাম বেচে অনেকেই রাজনীতি করে।

সাংসদ আরও বলেন, তাদের সেই শক্তিটাই সেদিন শুক্কুর ভাইয়ের উপর হামলা করার অপপ্রয়াস চালিয়েছিলো। আমি তখন পৌর পাঠাগারের ভেতরে ঢুকলাম। আমার পাঁচ মিনিট সময় লেগেছিলো। কারণ আমি এখনকার শামীম তখন ছিলাম না। তখন ওই পাঁচ মিনিটের মধ্যে তাদেরকে পৌর পাঠাগারেতো দূরের কথা পুরো এলাকায় তাদের কোনো অবস্থান ছিল না। শুক্কুর ভাই তখন জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি হন।

শামীম ওসমান বলেন, আমাদের এই সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে, এটা বলা ঠিক না। কিন্তু ৯৮ পার্সেন্ট ভালো মানুষ, খারাপ মানুষের ধাক্কায় সামনের দিকে আসতে পারে না। সেটা রাজনীতি, ব্যবসা, সাংবাদিকতা কিংবা সমাজের যেকোনো অবস্থার কথাই বলেন, খারাপের প্রভাব অনেক বেশি দেখায়। কারণ চাটুকারবৃত্তি করা, তৈল মর্দন করে সামনের দিকে চলে আসে। ভালো মানুষ এটা করেন না।

তিনি বলেন, কোনো কিছু চাওয়া পাওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসি নাই। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে পোস্টার লিখেছিলাম হাতে। আমাদেরকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে দেওয়া হলো। এখানে অনেক পোড় খাওয়া নেতা আছেন যারা আওয়ামী লীগকে ধারণ করেন। বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করেন। কিন্তু কোনো পদ পদবী নেই। তাদের ভেতর চাপা একটা অভিমাণ আছে। এই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য ২১ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখন চারিদিকে দেখি কেবল আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ। আর কোনো লীগ দেখি না। কিন্তু সেদিন আওয়ামী লীগের অনেক অভাব ছিল। সেইদিন এত মানুষ ছিল না।

সাংসদ সেলিম ওসমান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, রাজনীতিতে টাকা পকেটে ভরা সহজ কিন্তু পকেট থেকে টাকা বের করে দেওয়াটা কষ্টের। যদি সেটা হয় শ্রমের টাকা, তাহলে আরও বেশি কষ্টের। ঘুষের টাকা খরচা করা যায় রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করার জন্য। নারায়ণগঞ্জে অনেকেই একসময় ছিলেন, তাদের অনেকেরই কিছু ছিল না। হিন্দুদের অনুষ্ঠানে যখন যাই, তখন কেউ বলে অমুকে অমুক পুকুর দখল করেছে, অমুকে বাড়ি দখল করেছে। কারো বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে চাই না। তবে, নিজের অর্থ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা কমই দেখেছি। আমি আমার নেত্রীকে বলেছিলাম, আপা তাকে থামান। তখন নেত্রী বলেছিলেন, এটাই সাদগায়ে দুনিয়া। এটাই ওর সাথে যাবে। এটাই সঠিক পথ। নেত্রীর কথায় আমি অভিভূত হয়েছিলাম।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন কবীর মৃধার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজিমউদ্দিন প্রধান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু প্রমূখ।

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে