NarayanganjToday

শিরোনাম

করোনার থাবা : না.গঞ্জের এক গার্মেন্টেরই ১৫ মিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল!


করোনার থাবা : না.গঞ্জের এক গার্মেন্টেরই ১৫ মিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল!

করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে হুট করে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে তৈরি পোশাক খাতের ওপর। বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি মিলিয়ে দু’ক্ষেত্রেই করুণ দশা এই খাতে। একের পর এক অর্ডার বাতিল ও স্থগিত করছে বিদেশী ক্রেতারা। ফলে শঙ্কিত এই খাতের উদ্যোক্তারা।

চলতি মাসের ১৮ মার্চে নারায়ণগঞ্জের এ ওয়ান পোলার নামে একটি কারখানার ১৫ মিলিয়ন ডলারের রফতানি আদেশ বাতিলের কথা জানায় হল্যান্ডের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিঅ্যান্ডএ। ই-মেইল করে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে জানানো হয় রফতানি আদেশ বাতিলের বিষয়টি।

এছাড়াও এসকোয়্যার নিট কম্পোজিটের ২২ লাখ ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত করেছে দু’টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। বাতিল ও স্থগিতাদেশের মধ্যে পড়েছে অ্যাপেক্স হোল্ডিংসের ৪০ লাখ পিস পোশাক। বিটপি গ্রুপের ৪ লাখ ৬৬ হাজার ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এছাড়া আমান গ্রাফিক্স অ্যান্ড ডিজাইনের ১ লাখ ১৩ হাজার ডলার মূল্যের ৩৯ হাজার পিস পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। আমান নিটিংয়ের ১ লাখ ৯৭ হাজার ডলারের ৪৪ হাজার ৭২৬ পিসের ক্রয়াদেশ স্থগিত হয়েছে। স্কাইলাইন গার্মেন্টসের ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। রুমানা ফ্যাশনের ৯০ হাজার পিস পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত করেছে দুই ক্রেতা।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে গার্মেন্ট মালিকেরা মহা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তারা সরকারকে তাদের পাশে চাচ্ছেন। পরিস্থিতি যেভাবে অবনতি হচ্ছে, তাতে এই খাত মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ কোটি ডলারের রফতানি আদেশ বাতিল হয়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের কেউ ই-মেইল করে রফতানি আদেশ বাতিল করছেন, কেউ স্থগিত করছেন। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন রফতানি আদেশ না দেওয়ার কথা জানাচ্ছেন।

বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমার পোল্যান্ডের এক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান দু’দফার রফতানি আদেশ বাতিল করেছে। এরমধ্যে একটি আদেশ ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ডলারের। আরেকটি আদেশ ছিল ২ লাখ ডলারের।

তিনি জানান, করোনার কারণে এখন প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় রফতানি আদেশ বাতিল বা স্থগিতের মেইল পাচ্ছেন গার্মেন্ট মালিকরা। এ অবস্থায় সরকার যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায় তাহলে আমরা মারা পড়বো।

উদ্যোক্তারা বলছেন, আমেরিকা বা ইতালির মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করতে হবে। আর এমনটি হলে তৈরি পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াতে বেশ বেগ পেতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত করোনার কারণে বাংলাদেশের কোনো কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। শ্রমিক ও মালিকরা করোনা আতঙ্কের মধ্যেও কারখানাগুলো চালু রেখেছেন। এমন পরিস্থিতিতে পোশাকের চলমান ক্রয়াদেশ স্থগিত ও বাতিল করার তালিকা বড় হচ্ছে। এই তালিকায় বড় বড় ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। এরমধ্যে সিঅ্যান্ডএ, জারা, পুল অ্যান্ড বেয়ার, বেবি শপ, ব্ল্যাকবেরি, প্রাইমার্ক উল্লেখযোগ্য।

২১ মার্চ, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে