NarayanganjToday

শিরোনাম

সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের নয় প্রতিষ্ঠান উদ্বোধনে তিন মন্ত্রী


সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের নয় প্রতিষ্ঠান উদ্বোধনে তিন মন্ত্রী

দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরো গতিশীল করতে ও নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মেঘনা গ্রুপ একযোগে নতুন আরও নয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন শুরু করেছে।

শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মেঘনা ইকোনোমিক জোনের অভ্যন্তরে ও বাইরে স্থাপিত এই নতুন নয়টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। এ সময় অর্থমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বানিজ্যমন্ত্রী মন্ত্রী টিপু মুনসি, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, ব্যাবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম ও বেপজা’র চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীসহ বিশিষ্ট শিল্প মালিকরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে অর্জনের জন্য সরকারের সাথে ব্যবসায়ীদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুবর রহমানের দেখনো পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা যদি একে অপরের জন্য কাজ করতে পারি তবে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

বণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয়ার পর সারাদেশে পেঁয়াজ নিয়ে যখন হুলুস্থল চলছিল ঠিক সে সময় মেঘনা গ্রুপ সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলো। কোনো মুনাফা না করেই এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে পেঁয়াজ আমদানি করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, মেঘনা গ্রুপ একের পর এক শিল্পকারখানা গড়ে তুলে দেশে বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরি মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যানকে একজন দেশপ্রেমিক উদ্যোক্তা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি যে সব শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন তা দেশের উন্নয়ন ও কর্মস্থানের জন্য করেছেন। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানকে নিজের দাবি না করে বলছেন, এসব দেশের জন্য করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে দেশের ক্ষতি হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি  শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ব্যাংকগুলো গত নভেম্বর মাস থেকে সুদের হার নয় শতাংশে নামিয়ে এনেছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো যাতে হিডেন চার্জের নামে তিন চার পার্সেন্ট সুদ কেটে রাখতে না পারে সেজন্য গণমাধ্যমগুলোকে নজরদারি করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, সরকারের ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর জন্য নানা সুযোগ সুবিধা প্রদান করেছেন। তাই এই বিষয়গুলো যারা উদ্যোক্তাদেরকেও খেলায় রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল জানান, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মেঘনা ইকোনমিক জোনে চার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে স্থাপিত এ সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রায় দশ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হয়েছে। ব্যবসায় বিনোয়োগের পরিবেশ সৃৃষ্টির জন্য সরকার ও সরকারি সেবা প্রদানকারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আরো আন্তরিক হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

নতুন চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, মেঘনা সুগার রিফাইনার ইন্ড্রাষ্টিজ, সোনারগাঁ সীড ক্রাশিং মিলস, মেঘনা বলপেন এন্ড এক্সসরিজ এমএফজি, মেঘনা নুডুলস এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরী লিমিটেড, সোনারগাঁ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ইন্ড্রস্ট্রিজ লিমিটেড, মেঘনা ফ্রেস এলপিজি লিমিটেড, ফ্রেস ওয়েল্ডিং ইলেট্রোডস এন্ড ওয়্যার লিমিটেড, সোনারগাঁ শীপবিল্ডার্স এন্ড ডকইয়ার্ড ও ফ্রেস সিমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড ইউনিট-২।

প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন মাত্রা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে মেঘনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ জানায়, মেঘনা সুগার রিফাইনার ইন্ড্রাষ্ট্রিতে জার্মানি, ফ্রান্স, থাইল্যান্ড, চীন ও ভারত থেতে আধুনিক মেশিনসম্পন্ন সংক্রিয় পদ্ধতিতে দানাদার চিনির সাথে তরল চিনি উৎপাদন করবে। দৈনিক ৩ হাজার ৫শ’ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই কাখানায় ১ হাজার লোকেরও র্কমসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সোনারগাঁ সীড ক্রাশিং মিলসে জামানী, সুইডেন,ব্রাজিল ও ইটালীসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানীকৃত আধুনিক মেশিন দিয়ে এই মিলে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো লিকুইড লেসিথিনের পাশাপাশি পাউডার লেসথিন উৎপাদন হবে। যা বেকারী, ঔষুধ শিল্পকারখানা, ডেইরী এবং ফিড এর অপরিহার্য সয়ামিল হিসেবে পরিচিত। এর উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৫ হাজার ৫শ টন। এই কারখানায় প্রায় ৬শ লোকের কর্মসংস্থান হবে

মেঘনা বলপেন এন্ড এক্সসরিজ এমএফজি কারখানায় দক্ষিন কোরিয়া, চীন ও ভারতের আধুনিক সয়ক্রিয় মেশিনে প্রতিদিন ৮ লক্ষ বলপেন তৈরি হবে। যা দেশের চাহিদা পূরণ করে নেপাল ও ভিয়েতনামে রপ্তানি করা হবে।

মেঘনা নুডুলস এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরী লিমিটেডে চীন ও ইউরোপের আত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে বছরে ৪০ হাজার টন বিস্কুট, ১ হাজার ৯শ টন কেক,  ২০ হাজার টন নুডুলস, ৪ হাজার টন ওয়েফার, ৮ হাজার টন চকলেট, ৪ হাজার টন স্ন্যাকস্, ১২ হাজার টন চানাচুর,  ৬ হাজার ৫শ’ টন  কেনডি ও ললিপপস তৈরি হবে। এখানে ৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।

সোনারগাঁ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ইন্ড্রস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায় চীন ও ভারতের আধুনিক মেশিনে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ড্রস্ট্রিজের সকল প্রতিষ্ঠানের প্রিন্টিং এবং প্যাকেজিং সল্যুশন হিসেবে কাজ করবে। এই কারখানায়  দৈনিক  ৪ লাখ ৪২ হাজার পিস কার্টন  উৎপাদন হবে। এখানে ১শ’ লোকের র্কসংস্থান হবে।

মেঘনা ফ্রেস এলপিজি লিমিটেড কারখানায় ইউরোপের আধুনিক মেশিন দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার উৎপাদন হবে। এখানে  ১০ হাজার টন  এলপিজি ধারন ক্ষমতা সম্পুন্ন গুদাম রয়েছে। যাে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ  স্টোর হাউজ। এর উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৩শ টন এবং ১২ কেজির  সিলিন্ডার তৈরি হবে ৪ হাজার পিছ।

এছাড়া ফ্রেস ওয়েল্ডিং ইলেট্রোডস এন্ড ওয়্যার লিমিটেড, সোনারগাঁ শীপবিল্ডার্স এন্ড ডকইয়ার্ড ও ফ্রেস সিমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড ইউনিট-২ নামে নতুন চালু হওয়া এই তিনটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে আরো কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে