NarayanganjToday

শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জের সাইফুল্লাকে নিয়ে গর্বিত ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া’


নারায়ণগঞ্জের সাইফুল্লাকে নিয়ে গর্বিত ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া’

নারায়ণগঞ্জে নিজের ভ্যান নিয়ে করোনায় মৃতদের সৎকারে এগিয়ে আসা সাইফুল্লাহকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত তার বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া’। মানবসেবায় তার উদ্যোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘গর্বিত’ জানিয়ে নিজেদর অফিসিয়াল পেইজে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।

১৯ মে বিকেলের দিকে ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া’ এর অফিসিয়াল পেজে করোনাকালে সাইফুল্লাহর কাজের প্রশংসা করে ওই স্ট্যাটাস প্রকাশ করা হয়।

‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া’ সেখানে লিখেছে, “আমরা গর্বিত/ আমাদের টেক্সটাইল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ কে নিয়ে/ সে তার নিজস্ব মিনিভ্যানের মাধ্যমে বিনামূল্যে মহামারী কোভিড-১৯ এ মৃত্যুবরনকারীদের মৃতদেহ কবরস্থানে দাফন ও দাহের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছে।

এই সংকটময় সময়ে সে এই কাজের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাপনে অতুলনীয় অবদান রাখছে।/ (এই বৈশ্বিক মহামারীকালে মানবসেবায় আমাদের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার গল্প জানান আমাদের মেসেজ করে)।”

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ কোরোভাইরাস কিংবা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মরদেহের সৎকার করে আসছিলেন কয়েকদিন আগের থেকেই। এ নিয়ে বেশ আলোচিতও হয়েছেন এই কাউন্সিলর। এমনকী একজন ডাচ্ রাজনীতিবিদও তার এই কর্মের প্রশংসাসূচক পুরো বাংলাদেশকেই স্যালুট জানিয়েছেন।

এছাড়াও এমন মহতী উদ্যোগের জন্য নারায়গঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান খোরশেদকে ‘নারায়ণগঞ্জের বীর বাহাদুর’ হিসেবেও উপাধি দেন। এবার সেই বীর বাহাদুরের কাজকে আরও গ্রতিশীল ও সম্প্রসারিত করতে এগিয়ে এসেছিলেন সাইফুল্লাহ। তিনি এই কাজে তার পিকআপ ভ্যানটি দিয়েছেন কাউন্সিলর খোরশেদকে। এবং নিজেই কাউন্সিলরের সাথে মরদেহ এই গাড়িতে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। যতদিন এ পরিস্থিতিতে তিনি সৎকার করবেন, ততদিন সে তার গাড়িটি এখানে রাখবেন এবং নিজেও থাকবেন খোরশেদের সঙ্গে।

কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ২৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে জানিয়েছিলেন, সাইফুল্লাহ একজন ছাত্র। সে জালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা। একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে সে বিএসসি পড়ছে। তার বাবা ছিলেন কবি নজরুল কলেজের দপ্তরি। তিন লাখ টাকা দিয়ে কয়েক মাস আগে সে একটি পুরাতন পিকআপ ভ্যান কিনে। এটি সে নিজেই চালায়। আমাদের কর্মকাণ্ড দেখে সে বুধবার আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং স্বেচ্ছায় নিজেও এ কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

খোরশেদ আরও বলেন, আমরা রিকশাভ্যানে করে মরদেহ বহন করি, সেটি সে দেখে নিজেই উদ্যোগী হয়ে তার পিকআপ আমাদেরকে দিয়েছে। এটি সে নিজেই চালিয়ে মরদেহ বহন করে যাচ্ছে। আমরা কেবল তেল খরচটা দিচ্ছি। তাকেও টাকা সেধেছি। কিন্তু সে টাকা নিতে রাজি নয়।

২০, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে