NarayanganjToday

শিরোনাম

পিতা-পুত্রের লাশ দাফনে বাধা দিয়ে কাউন্সিলরের বীরত্ব!


পিতা-পুত্রের লাশ দাফনে বাধা দিয়ে কাউন্সিলরের বীরত্ব!

একদিকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পেরে বিনাচিকিৎসায় চোখের সামনেই মারা যায় যুবক। এই মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে ঘণ্টা পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তার বাবা। সব মিলিয়ে পুরো পরিবারসহ প্রতিবেশীরা শোকার্ত। এমন একটি শোকার্ত পরিবারের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো পিতা-পুত্রের লাশ দাফনে বাধা দিয়েছেন এক কাউন্সির।

অভিযোগ উঠেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এক নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক ও তার লোকজন সিদ্ধিরগঞ্জ সদারপাড়া মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী ইয়ার হোসেন ও তার ছেলে রিমন হোসাইন ওরফে রিমন সাউদের মরদেহ মিজমিজি পাইনাদী ঈদগাহ করবস্থানে দাফন করতে দেয়নি।

তবে, এ ঘটনাটি সত্য নয় বলে দাবি করেছন কাউন্সিলর ওমর ফারুক। তিনি জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনা এখানে ঘটেনি।

অন্যদিকে পাইনাদি কবরস্থানে পিতা-পুত্রের মরদেহ দাফন করতে না পেরে পাঁচ নং ওয়ার্ডে তাদের দাফন করা হয়। এখানে স্থানীয় কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল ও তার লোকজন দাফনে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) পাইনাদি কবরস্থানে পিতা-পুত্রের লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৃতের পরিবারের লোকজন। এর আগে সোমবার দুপুরের পর লাশ দাফনের ঘটনা ঘটে। পরে পিতা-পুত্রের মরদেহ এদিন বিকেলের দিকে সাইলোরোড কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃতের পারিবারকি ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দাফন করা হয় পাইনাদি কবরস্থানে। এটি এখানকার কেন্দ্রী কবরস্থান বলা হয়ে থাকে। সে মোতাবেক সেখানে দাফনের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাউন্সিলর ওমর ফারুকের লোকজন এসে দাফনে বাধা দেন এবং এটি কাউন্সিলরের নির্দেশ বলে জানায়। পরবর্তীতে অনুনয় করেও সেখানে দাফন করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, রিমন হোসাইন ওরফে রিমন সাউদ করোনায় মারা গেছেন। এমন অভিযোগ তুলে মিজমিজি পাইনাদী ঈদগাহ করবস্থানে তাকে দাফন করতে বাধা দেয় কাউন্সিলরের লোকজন। পরে কাউন্সিলরকে বিষয়টি জানালে তিনিও এতে সাফ মানা করে দেন। তবে, তার পিতা হাজী ইয়ার হোসনকে দাফন করতে কোনো বাধা নেই বলে জানানো হয়েছিল। পরে, পিতা-পুত্রের মরদেহ সেখান থেকে ফিরিয়ে এনে সাইলোরোড কবরস্থানে দাফন করা হয়। এখানে সার্বিকভাবে স্থানীয় কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মদ সাদরলি ও তার লোকজন মৃতের পরিবারকে সহযোগিতা করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর ফারুকের মুঠফোনে কল করা হলেও সেটি সচল পাওয়া যায়নি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো রকম বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পেলে এই সংবাদে যুক্ত করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর ফারুকের মুঠফোনে কল করা হলেও সেটি সচল পাওয়া যায়নি। তবে, রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কাউন্সিলর ফারুক নিজ থেকে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ওই ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না, কেউ তার কাছে আসেনি দাবি করে তিনি বলেন, দাফনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। মৃত ব্যক্তির প্রতি কারো কোনো অভিযোগ থাকে না। আমাকেও মরতে হবে।

ওমর ফারুক বলেন, আমি আগেই কবরস্থান কমিটির লোকদেরকে জানিয়েছি। করোনা আক্রান্ত হোক বা না হোক, কোনো মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়া যাবে না। বরং উপস্থিত থেকে দাফন সম্পন্ন করতে হবে এবং আমাকে জানালে আমিও উপস্থিত থেকে দাফন করবো। সিটি করপোরেশন থেকেও এমন নির্দেশনা দেওয়া আছে। সে মোতাবেকই কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমি পরে খবর নিয়ে জানতে পারি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির সঙ্গে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল। মরদেহ এখানে আনা হয়নি। এরপরও এই ধরণের ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাই।

১২ মে, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে