NarayanganjToday

শিরোনাম

না.গঞ্জে করোনা-দূর্যোগ উত্তরণ সমন্বয় কমিটি


না.গঞ্জে করোনা-দূর্যোগ উত্তরণ সমন্বয় কমিটি

নারায়ণগঞ্জে করোনা দূর্যোগ উত্তরণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরের দিকে শহরের দুইনং রেলগেট এলাকায় জেলা বাসদ কার্যালয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বস্মতিক্রমে এই কমিটি গঠন করা হয়।

রফিউর রাব্বি’র সভাপতিত্বে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বর্তমান করোনা-দূর্যোগে নারায়ণগঞ্জের বাস্তবতা ও অব্যবস্থা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। সভায় অনেকেই ভিডিওকনফারেন্স ও টেলিফোনের মাধ্যমেও যুক্ত হন।

সভায় বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এড.এবি সিদ্দিক, আমরা নারায়ণগঞ্জ বাসীর সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সদস্য এড. মন্টু ঘোষ, জেলা সংগঠক বিমল কান্তি দাস, বাসদ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, সংগঠক আকু নাঈম খান বিপ্লব, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, শহর সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সম্পাদক হিমাংসু সাহা, উদীচী জেলা সভাপতি জাহিদুল হক দীপু, সামাজিক সংগঠন সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল প্রমূখ।

সভায় রফিউর রাব্বিকে আহ্বায়ক করে “করোনা-দূর্যোগ উত্তরণ সমন্বয় কমিটি” নামে ৭৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হচ্ছেন এড. এবি সিদ্দিক, মোহাম্মদ নূরুদ্দিন, এড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম, রথীন চক্রবর্তী, অসিত বরণ বিশ্বাস, আবদুস সালাম, ভবানী শংকর রায়, হাফিজুল ইসলাম, নিখিল দাস, এড. আওলাদ হোসেন, তরিকুল সুজন, হিমাংসু সাহা, মাহমুদ হোসেন, দুলাল সাহা ও জাহিদুল হক দীপু।

সদস্য : হালিম আজাদ, এড. মন্টু ঘোষ, আবদুর রহমান, নাসির উদ্দিন মন্টু, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আবু নাঈম খান বিপ্লব, শিবনাথ চক্রবর্তী, এড. জিয়াউল ইসলাম কাজল, এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, ধীমান সাহা জুয়েল, জহিরুল ইসলাম, শাহেদ কায়েস, রীনা আহমেদ, শাহানারা বেগম, পপি রানী সরকার, রাশিদা আক্তার, অমল আকাশ, বিমল কান্তি দাস, জাকির হোসেন, অঞ্জন দাস, শাহীন মাহমুদ, সেলিম মাহমুদ, কৃতি কনিকা, দীনা তাজরিন, ফারুক মহসিন প্রমূখ।   

সভায় নিম্নলিখিত দাবি সমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

১। নারায়ণগঞ্জে দ্রুত করোনা-পরীক্ষা-ল্যাব স্থাপন করা।
২। নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন ন্যূনতম ৫০০ নমুনা পরীক্ষা করা।
৩। নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা চিকিৎসার জন্য প্রতি উপ-জেলায় ১০০ শয্যা সহ জেলায় চিকিৎসা সেবা ১০০০ শয্যায় উন্নিত করা।


৪। ডাক্তার, নার্স সহ চিকিৎসা কাজে নিয়োজিতদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিৎ করা। আপত-কালীন সংকট উত্তরণের জন্য জেলায় অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের জরুরী ভিত্তিতে কাজে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৫। জেলায় দ্রুত ‘আইসিইউ’ চালু করা এবং অন্তত ১০০ ভেন্টিলেটর মওজুদ রাখা।


৬। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি জাতীয় পরিচয় পত্রের ভিত্তিতে (ভোটার তালিকা নয়) নারায়ণগঞ্জে নিম্নবিত্ত পরিবার সমূহের তালিকা করে তাদেরকে দ্রুত খাদ্য-সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা। এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের যে তালিকা রয়েছে তাকে সময়োপযোগী করা।
৭। জাতীয় পরিচয় পত্রের ভিত্তিতে মধ্যবিত্তদের তালিকা করে রেশনিং এর মাধ্যমে তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করা।


৮। ১০টাকা কেজিতে চাল ও স্বল্পমূল্যে খাদ্য সামগ্রী নারায়ণগঞ্জ শহর ও উপজেলাসমূহে প্রতিদিন নিয়ম করে বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।
৯। গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বাস্থ সুরক্ষা নিশ্চিৎ না করে গার্মেন্টস খুলে দেয়ার মতো আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা। গার্মেন্টস শ্রমিকদের চিকিৎসা ফেক্টরীর মালিকদেরকেই নিশ্চিৎ করা। শ্রমিকদের জন্য মালিক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনে পৃথক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা। সরকারী নির্দেশনা গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ মানছে কিনা, তা যথাযথ ভাবে তদারকি করা।


১০। অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের জন্য ত্রাণ বিতরণে সরকারী কমিটিতে শ্রমিক ফেডারেশনের নেত্রীবৃন্দকে যুক্ত করা।
১১। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের নিয়মিত তদারকী অব্যাহত রাখা।


১২। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে মশক-নিধন কার্যক্রম বৃদ্ধি করা এবং প্রতিদিন নিয়ম করে তা অব্যাহত রাখা।
১৩। বিভিন্ন স্থানে করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ কর্মী ও সাধারণ মানুষ যে ভাবে সামাজিক প্রতিরোধের শিকার হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের শক্ত অবস্থান গ্রহণ করা।

২৯ এপ্রিল, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে