NarayanganjToday

শিরোনাম

সেই নারীর মৃত্যুতে ডাক্তারসহ কোয়ারেন্টাইনে ৭, আইসোলেশনে একজন


সেই নারীর মৃত্যুতে ডাক্তারসহ  কোয়ারেন্টাইনে ৭, আইসোলেশনে একজন

বন্দরে করোনাভাইরাস আক্রান্তে মারা যাওয়া নারীর সংস্পর্শে থাকায় এক চিকিৎসক, নার্সসহ ৭ জনকে হোমকোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন থাকা অবস্থায় ওই নারীর কাছে থাকায় একজন ওয়ার্ডবয়কে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা করোনা ফোকাল পার্সন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ওই নারীকে নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালের সেবা প্রদানকারী একজন চিকিৎসক, নার্স, এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, প্রাইভেট ল্যাবের ল্যাব টেকনিশিয়ান, এক্সরে টেকনিশিয়ান, আয়া ও চেম্বার এসিস্ট্যান্টকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও তাকে যে ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল সেখানকার যে ওয়ার্ডবয় তাকে সেব দিয়েছিলেন তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায় বন্দরের রসূলবাগ এলাকার ৫০ বছর বয়সী ওই নারীকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে এখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতার পাঠানো হয়। তবে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এমন সন্দেহে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ওই নারীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ৩০ মার্চ বন্দরের রসুলবাগ এলাকার ওই নারী ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে করোনা সন্দেহে ভর্তি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সেদিনই মারা যান। পরে আইইডিসিআরকে খবর দিলে তারা এসে রোগীর মরদেহ হতে নমুনা সংগ্রহ করে।

এদিকে ওই নারীর মৃত্যুর পর তার স্বজনেরা মরদেহ বন্দরে নিজ বাড়ি নিয়ে আসেন এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করেন। এর দুদিন পর (২ এপ্রিল) আইইডিসিআরের রিপোর্টে তার করোনাভাইরাস পজিটিভ। এরপরই আইইডিসিআর থেকে এ তথ্য জানানো হয় জেলা সিভিল সার্জনসহ স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে।

ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, আমাদেরকে আইইডিসিআর থেকে পজিটিভের বিষয়টি জানায় এবং সেখান থেকে কর্মকর্তারাও আসেন। পরে তাদের নিয়ে আমি নিজেই বন্দরের রসূলবাগ এলাকায় যাই। সেখানে সারাদিন আমরা লকডাউন কতটুকু করবো, কীভাবে কি করবো এবং তাদের পরিবারের লোকজনদের সাথে কথা বলি। এরপরই রাতে ওই এলাকা লকডাউন করা হয়।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই নারীর মৃত্যুর পর জেলা সিভিল সার্জন থেকে জানানো হয়েছিল, তার পরিবারের স্বজন এবং প্রতিবেশী কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করা হবে শুক্রবার। তবে, কতজনের নমুনা সংগ্রহ করা হবে সে বিষয়টি নিশ্চিত করেননি সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ।

এ প্রসঙ্গে জেলা করোনা ফোকাল পার্সন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নমুনা আইইডিসিআর সংগ্রহ করবে। তারা নিজেরা এসে এটা করবে। আসার সময় আমাদেরকে জানাতেও পারেন আবার না-ও জানাতে পারেন।

প্রসঙ্গত, নিহত ওই নারীর শরীরে করোনাভাইরাস পজিটিভ আসার পর তার পরিবারের ৭ সদস্যসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ২৩ নং ওয়ার্ডের বরফকল ঘাটের সন্নিকটে একরামপুর এলাকার শতাধিক পরিবারসহ রসুলবাগ মহল্লার একাংশকে লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে।

৩ এপ্রিল, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে