NarayanganjToday

শিরোনাম

শহরে হচ্ছে ১শ শয্যার প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন


শহরে হচ্ছে ১শ শয্যার প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেন বৈঠক করেছে। করোনা প্রতিরোধে ঘোষিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এই বৈঠক করেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালের দিকে মেয়রের কক্ষে ওই বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী আবুল আমিন।

এর আগে মেয়র আইভীকে প্রধান করে ১০ মদস্য বিশিষ্ট সিটি করপোরেশন এড়িয়ার জন্য করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন, ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আজগর হোসেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ফারুক, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান সরদার, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বসির উদ্দিন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা আলী।

এদিকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে করোনা মোকাবেলায় নানা ধরণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের ব্রিফে জানান আবুল আমিন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন  এলাকায় প্রায় ১০ হাজারের মত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছি। এর সাথে ৫ হাজার স্টিকার, ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। এছাড়াও ওয়েবসাইট ও ফেসবুকেও সিটি করপোরেশন থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আবুল আমিন বলেন, জনবহুল জায়গাগুলোতে যেমন- লঞ্চঘাট, শহীদ মিনার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমরা ক্লোরিন মিশ্রিত পানি ছিটানোর কার্যক্রম চলছে। করোনা ও ডেঙ্গু মোকাবেলার জন্য ওয়ার্ড পর্যায়ে আমরা সমন্বয় কমিটি গঠন করে দিয়েছি। এছাড়াও পুরাতন কোর্ট ভবনে প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টাইনে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট করার জন্য কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের বলে দিয়েছি তাদের ওয়ার্ডে আগত প্রবাসীরা হোম কোয়ান্টোইনে আছে কিনা সেটি নিশ্চিত করার জন্য। সকল শ্রেণির সবধরনের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রেণে আনা কঠিন।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ৩২ জন বিদেশ ফেরতের তালিকা আমরা পেয়েছি। এর মধ্যে ৪ জনকে আমরা ট্রেস করতে পারিনি। আমাদের সিটি করপোরেশন এড়িয়া হলো ৭২.৪৩ বর্গকিলোমিটার। এর বাইরে বিপুল পরিমাণ জায়গা রয়েছে যা সিটি করপোরেশনের বাইরে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা তিন অঞ্চলকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি তারা ওয়ার্ড পর্যায়ে খুজে বের করবে বিদেশ প্রবাসীদের। যাতে করে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

মেডিকেল অফিসার মোস্তফা আলী বলেন, আমরাও শুনতে পেরেছি নারায়ণগঞ্জে ৫ হাজারের অধিক বিদেশ ফেরত রয়েছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশনের জন্য যে তালিকা দেওয়া হয়েছে সেখানে ৩২ জনের তালিকা রয়েছে।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ৫ হাজার বা সাড়ে ৫ হাজারের যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে সেটি মূলত মার্চের শুরুর থেকে। মার্চের ১ ও ২ তারিখে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী এসেছেন। ১৪ ও ১৫ তারিখের দিকে ইতালি ফেরত যারা আছেন তাদের বেশি প্রায়োরিটি দিচ্ছি। আমার কাছে সিটি করপোরেশন এলাকার তথ্য হোক আর যাই হোক তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা তাদের কোয়ারেন্টাইন করতেছি। ২০ লিটার পানিতে ২০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে জনবহুল যেসব জায়গা রয়েছে সেসব জায়গায় ছিটানো হচ্ছে।

২২ মার্চ, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে