NarayanganjToday

শিরোনাম

‘তারা ঘরে থাকলে না খেয়ে মরবে, বাইরে গেলে করোনায় মরবে’


‘তারা ঘরে থাকলে না খেয়ে মরবে, বাইরে গেলে করোনায় মরবে’

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি। সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের পরিস্থিতি সঙ্কটময় উল্লেখ করে সংগঠনটি সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ওই সংবাদ সম্মেলনে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিকী। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হাই, খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম এবং জহিরুল ইসলাম মিন্টু।

বিভিন্ন সময়ে দেশে সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সেনা বাহিনী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে এবি সিদ্দিকি বলেন, বর্তশানে করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে দেশে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। রাস্তা-ঘাটে মানুষের সমাগম ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে করে করোনা ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এই মহাদুর্যোগে আমাদের সেনা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই আমরা সেনা বাহিনী মোতায়েনের দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, নিতপণ্যের পাশাপাশি প্রথমিক চিকিৎসার ওষুধপত্রর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে অসাধু মুনাফা লোভীরা। পুলিশ টহল দিলে দাম কমে আবার টহল শেষে দাম হু হু করে বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একমাত্র সেনা বাহিনী অত্যাবশ্যক। একই সঙ্গে পুলিশ, র্যা বসহ প্রশাসনের সকল পর্যায়কে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানাই আমরা।

নিম্ন মধ্যবিত্তদের কথা বিবেচনা করে করোনায় সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারকে তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি রফিউর রাব্বি। 

তিনি বলেন, অনেকেই আছেন দিন আনেন দিন খান। এই অবস্থাতে তারা ভয়াবহ সঙ্কটে পড়ে যাবে। তারা ঘরে থাকলে না খেয়ে মরবে আবার বাইরে বেরিয়ে আসলে করোনায় মরবে। তাদের জন্য সরকারকে কিছু করতে হবে। সরকার মিয়ানমারের দশ লাখ শরণার্থীকে খাওয়াতে পারলে গৃহবন্ধি যারা থাকবে তাদের ভরণ পোষণও করতে পারবে।

সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকবেলা সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের প্রথমেই পরিকল্পিতভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে পারতো সরকার। তবে, সরকার হাজার চেষ্টা করুক কিন্তু জনগণ যদি সাড়া না দেয় তাহলে কিছুই সফল হবে না। সুতরাং এই সঙ্কট মোকাবেলায় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। কতোটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা হতে যাচ্ছি তা এখনও বুঝতে পারছি না। হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন, মাস্ক বিতরণ করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় স্টেজের কাজ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ধারণা করছে- আমাদের দেশ খুব দ্রুত চতুর্থ স্টেজে যাবে, যেটা বর্তমানে ইতালি, ইরানে রয়েছে।

২৩ মার্চ,২০২০/এমএ/এনটি

উপরে