NarayanganjToday

শিরোনাম

ক্রেতার অতি চাহিদায় বাড়ছে দ্রব্যমূল্য, শহরে কমছে না লোকসামাগম


ক্রেতার অতি চাহিদায় বাড়ছে দ্রব্যমূল্য, শহরে কমছে না লোকসামাগম

সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলাব্যাপী বিয়ে, সভা-সমাবেশ, ওয়াজ মাহফিলসহ সকল ধরণের লোকসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনও ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।

তবে, সাধারণ মানুষ এই তৎপরতার পরও সচেতন হচ্ছেন না। যত্রতত্র লোক সমাগম ঘটাচ্ছেন। একাধিক ব্যক্তি একত্রিত জমায়েত হয়ে অযথাই করছেন আড্ডাবাজি। শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন চা স্টল, হোটেল রেস্তোঁরাতেও দেখা যায় মানুষের ভিড়।

এছাড়া বিভিন্ন বাজারে দেখা যায় উপচে পড়া মানুষের ভিড়। প্রায় অনেকেই আসছেন আগাম পণ্য ক্রয় করার জন্য। কারো মাসের বাজার এক বস্তা চাল দরকার হলে সে নিয়ে নিচ্ছেন দুই, তিন এমনকি চার বস্তাও। পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য সামগ্রীও কিনছেন অতিরিক্ত। আর এ সুযোগে আড়তদারা কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে পণ্যের মূল্য রাখছেন অতিরিক্ত। সব মিলিয়ে ক্রেতা আর বিক্রেতাদের এমন কাণ্ডে হতাশ হয়েছেন অনেকেই।

সচেতন মহল বলছেন, ক্রেতা যখন প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পণ্য ক্রয় করবেন তখন স্বাভাবিক ভাবে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। আর এই চাহিদা বৃদ্ধিকে কাজে লাগাতে সবসময়ই একশ্রেণির মুনাফালোভী, অসাধু ব্যবসায়ি চক্র ওঁৎ পেতে থাকে। সে সুযোগে তারা পণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দিয়ে প্রায় সব পণ্যেরই অতিরিক্ত মূল্য রাখতে শুরু করে। এভাবেই সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা।

তারা বলেন, এসব রোধ করতে হলে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। বিক্রেতার পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য ক্রয়ের কারণে ক্রেতাদেরকেও আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে, ক্রেতার চাহিদা বেশি থাকলে বিক্রেতা সে সুযোগে পণ্যের দাম বাড়াবেই।

এদিকে শহরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে র‌্যাব মাঠে নেমে লোকসমাগম না ঘটাতে মাইকিং করে সাধারণ মানুষদেরকে সতর্ক করেছে। দ্বিতীয় দিন শুক্রবারও তারা শহরে টহল দিয়েছে। তবে, এতে করেও লোক সমাগম কমেনি। বরং ছুটির দিন হওয়াতে সর্বত্রই মানুষের আনাগোনা অন্য দিনের তুলনায় বেশি। দেখে অনেকের কাছেই মনে হতে পারে, এটি হয়তো কোনো উৎসবের আমেজ।

সচেতন মহল বলেন, শুধু মাইকে সতর্ক করলেই চলবে না। পাশাপাশি কঠোর পদক্ষে নিতে হবে র‌্যাব, পুলিশসহ প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্তাব্যক্তিদের। তা না হলে লোক সমাগম কোনোভাবেই কমানো যাবে না। আর লোক সমাগম না কমলে করোনাভাইরাসের যে ঝুঁকি তা ক্রমশই বৃদ্ধি পাবে। ফলে প্রশাসনকে আরও বেশি কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল।

২০ মার্চ, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে