NarayanganjToday

শিরোনাম

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সড়কে ঝরল নারায়ণগঞ্জের ১৭ প্রাণ


কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সড়কে ঝরল নারায়ণগঞ্জের ১৭ প্রাণ

পৃথক চারটি সড়ক দুর্ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের নারীসহ ১৭ জন নিহত ও আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। ৫ মার্চ দিবাগত মধ্যরাত এবং শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরের দিকে পৃথক চার জেলাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই বন্দর, রূপগঞ্জ ও ফতুল্লার বাসিন্দা।

সূত্র জানায়, ৫ মার্চ রাতে বন্দর থেকে দশ যুবক মিলে একটি মাইক্রোবাসে করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে এদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় একটি যাত্রীবাহি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটলে ঘটনাস্থলে ৫ জন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজন নিহত হন। আহত আরও চারজন হাসপাতালে ভর্তি আছে।

নিহতরা হলেন, বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জের দিলারবাড়ি এলাকার চায়ের দোকানি আবুল হোসেনের ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী সাগর (২০), আবুল হোসেনের কর্মচারী শাহিন (১৬) ও আরেক কর্মচারী হারুন (৪২), নবীগঞ্জের দেউলী চৌরাপাড়া এলাকার মসলার ব্যবসায়ী নুরুল হকের ছেলে রিফাত (১৮), একই এলাকার রাজমিস্ত্রী তাওলাদ হোসেনের ছেলে ইমন (১৭), খোরশেদ আলমের ছেলে গাড়ি চালক সোহান (২২)।

আহতরা হলেন, নবীগঞ্জের কদমতলী এলাকার শাহীন আহমেদ শান্ত (৩০), জিসান (২৪), নবীগঞ্জের দেউলী চৌরাপাড়া এলাকার স্যানেটারি মিস্ত্রী আফজাল হোসেনের ছেলে বিজয় (১৯), একই এলাকার আবিদ (১৯)।

আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। হতাহত সকলেই এদিন রাতে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে বন্দর থেকে একটি মাইক্রোবাসে রওনা হয়েছিলেন।

অন্যদিকে ৫ মার্চ রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলা থেকে ১৩ জনের একটি দল মাইক্রোবাসযোগে সুনামগঞ্জের দিরাই এলাকায় যচ্ছিলেন বিয়ের কথা পাকাপাকি করতে। পথিমধ্যে শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৭ টার দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কান্দিরগাঁও এলাকায় মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লেগে দুমড়ে মুচড়ে নিহত হয়েছেন বরের বাবা, বোন, ভাইসহ নয় জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

নিহতরা হলেন, পাগলা মুসলিমপাড়া এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে আইএফসিআই ব্যাংকের কর্মচারী আব্বাস উদ্দিন (৫৫), তার ছেলে ইমন (২৫), ছোট ছেলে রাব্বি (২০), একই এলাকার আবুল গণি তালুকদারের ছেলে মো. খলিলুর রহমান (২৫), মুসলিমপাড়া কুসুমবাগ এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে সুমনা আক্তার (৩৫), একই এলাকার তোতা খানের ছেলে ইমরান (১৬), আবুল হোসেনের ছেলে রাজিব (২৫), ঢাকা মতিঝিলের মজিবুর রহমানের স্ত্রী আসমা আক্তার (২৫), একই এলাকার হাজী মহসীন (৭০)। তাদের মধ্যে সুমনা আক্তার হাসপাতালে এবং বাকীরা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। মরদেহগুলো উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে থানায় নিয়েছে পুলিশ।

আহতরা হলেন, বেলায়েত হোসেনের মেয়ে খাদিজা (৪), আবুল হোসেন (৫৫), রফিক (৪০), নাদিম (৩৫)। তাদেরকে ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে মার্চ রাতে আশুলিয়ার শ্রীপুরের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে নারায়ণগঞ্জে কর্মস্থলে আসছিলেন শিল্প পুলিশের কনস্টেবল আকাশ আহমেদ (২২)। পথিমধ্যে রাত একটার দিকে সাভারের উলাইল এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি ট্রাক মোটরসাইকেলসহ তাকে চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত আকাশ আহমেদ ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার আব্দুল মজিদের ছেলে। ২০১৮ সালে তিনি নারায়নগঞ্জ শিল্প পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে যোগদান করেন। তবে বর্তমান তারা পরিবার নিয়ে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে থাকতেন।

এছাড়াও শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোর পাঁচটার দিকে ময়নসিংহের ভালুকা উপজেলার মেহরাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি বড় পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা খায় মাছভর্তি আরেকটি ছোট পিকআপ। এতে ছোট পিকআপের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় পিকআপ চালক রাজনসহ নিহত হন  নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী মো. আজিম। তিনি উপজেলার তালাশ কোর্ট এলাকার আবদুস সালামের ছেলে

ভালুকা হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মাহমুদ আদনান বলেন, মাছভর্তি ছোট পিকআপের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর একটি বড় পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা লাগালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পিকআপ দুটি জব্দ করা হয়েছে। নিহত দুজনের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

৬ মার্চ, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে