NarayanganjToday

শিরোনাম

সমবায় মার্কেটে নারী ক্রেতার সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগ


সমবায় মার্কেটে নারী ক্রেতার সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগ

তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে এক মা ও তার ছেলেকে ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে পুলিশে তুলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে শহরের একটি মার্কেটের দোকানিরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় রহিম নামে এক পথচারীকে আটকে পিটুনীও দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত রহিমকে উদ্ধার করে খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি শহরের নিমতলা এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

২২ ফেব্রুয়ারি রাত ৯ টার দিকে শহরের চাষাড়া সমবায় মার্কেটের নিচতলাতে ঘটেছে ওই কাণ্ড। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকশ মানুষ।

তারা বলছেন, সমবায় মার্কেটের নিচতলাতে প্রায় সময় এই ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে বিক্রয় প্রতিনিধিরা। তাদের সাথে এসে যোগ দেন অন্যান্য দোকানীরাও। এসব ঘটনাগুলো বহু পুরনো হলেও মার্কেট পরিচালনা পর্ষদ এ ব্যাপারে কোনো ধরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। ফলশ্রুতিতে এ ধরণের ঘটনা কমার থেকে দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে প্রকাশ, এক মা তার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ছেলেকে নিয়ে সমবায় মার্কেটের নিচতলাতে আগের কেনা একটি পণ্য পরিবর্তন করার জন্য আসেন। কিন্তু দোকানি সেটি পরিবতর্ন করতে রাজি না হওয়াতে এ নিয়ে তর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে উঠে দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি তরুসহ কয়েকজন। ওই নারীকে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলতে শুরু করলে প্রতিবাদ করেন সঙ্গে থাকা ১৫ বছরের ছেলেটি। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বিক্রয় প্রতিনিধি। তার সাথে যোগ দেন অন্যান্য দোকানী ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা। এক পর্যায়ে মহিলা তার ছেলেকে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় দোকানিরা সমস্বরে বলে উঠেন, ‘চলে যা নইলে ছিনতাইকারী বলে পুলিশে ধরিয়ে দেব’।

এদিকে ক্রেতার সাথে দোকানিদের তর্ক-বিতর্কের সময় মার্কেটের সামনে উৎসুক অনেক মানুষ এসে ভিড় করেন। তবে, ছিনতাইকারী হিসেবে পুলিশে তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়াতে উৎসুক জনতার মধ্য থেকে রহিম নামে একজন এর প্রতিবাদ করেন। অমনি তার উপর হামলে পড়েন দোকানীসহ বিক্রয় প্রতিনিধিরা। তাকে আটকে বেধড়ক পিটুনী দেন তারা।

এদিকে মার্কেট সভাপতি খাজা এবায়দুল্লাহ টিপু প্রথমে নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে বলেন ‘এমন ঘটনা সম্পর্কে আমি এখনও কিছু শুনিনি। তবে, সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছি। মার্কেটে আগে যাই, কথা বলি তারপরও কি হয়েছে সেটি বলতে পারবো।’

এরপরই তিনি কথা প্রসঙ্গে বলেন, ওই মহিলা একটা পণ্য কনেছিলেন। সেটি ফেরৎ দিতে এসে উচ্চবাচ্য হয়েছিলো। বসে এর সমাধান করবো। তবে, আমাদের সবাইকেই সহনশীল হওয়া উচিৎ। আপনারাও যদি একটু বাড়িয়ে লিখেন তাহলে হয়তো মার্কেটের ক্ষতি হবে। ওই ছেলেটার চাকরি চলে যাবে।

এর আগেও এমন ধরণের ঘটনা মার্কেটের নিচতলাতে ঘটেছিলো। প্রায় সময় এমন ঘটনা ঘটে থাকে, এমন প্রশ্ন করলে টিপু বলেন, এটা শুধু সমবায় মার্কেটেই না। সব মার্কেটেই কম বেশি হয়। আগে এখানে ব্যাপরটা বেশি ছিল। এখন অনেকটা কমেছে।

এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হয় সদর মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদনিরে সাথে। তিনি জানান, এ ধরণের কোনো ঘটনার খবর তাদের কাছে নেই। কেউ কোনো ধরণের অভিযোগও করেননি।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে