NarayanganjToday

শিরোনাম

না.গঞ্জে হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ সুউচ্চ ‘১১১ তলা’ ভবন


না.গঞ্জে হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ সুউচ্চ ‘১১১ তলা’ ভবন

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সুউচ্চ ভবনটি নির্মাণ হবে নারায়ণগঞ্জে। যার পরিধি হবে ১শ ১১ তলা। এটি নির্মাণ করা হচ্ছে জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু ট্রাইটাওয়ার’। আগামী ২০২০ সালে এই ভবনটির কাজ শুরু হবে এবং এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে ২০২৪ সালে।

সূত্র জানায়, পূর্বাচল সেন্ট্রাল বিজনেজ ডিস্ট্রিক নামে রাজউকের আইকনিক টাওয়ার করবার কাজটি দরপত্রের মাধ্যমে শিকদার গ্রুপ ও কাজিমা কর্পোরেশন জাপান যৌথভাবে নির্বাচিত হয়। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের মাটি পরীক্ষা, যানবাহন ব্যাবস্থাপনা সহ বিভিন্ন সমিক্ষা প্রতিবেদন রাজউকে জমা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের খসড়া মাস্টার প্ল্যান ও ডিজাইন রাজউক এ জমা দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি স্মার্ট ও নান্দনিক আইকনিক টাওয়ারের এই ডিজাইনের জন্য রাজউক আন্তর্জাতিক একটি পুরস্কার লাভ করে।

পরিবেশ বান্ধব এই ভবন সমূহে সারা ওয়াল জুড়ে লাগানো হবে বিশ্বের সর্বাধুনিক সোলার গ্লাস। আধুনিক বর্জ্য ব্যাবস্থা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও বিভিন্ন ইউটিলিটির জন্য করা হবে কমন ডাক্ট ব্যাবস্থা। গ্রীন ভবন সমূহের বাউন্ডারি ওয়ালে চীনের গ্রেট ওয়ালের আদলে গড়ে তোলা হবে ওয়াক ওয়ে! সেই সাথে অভ্যন্তরীন যাতায়াতের জন্য পরিবেশ বান্ধব ইলেট্রনিক বাস এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াক ওয়েও থাকবে এখান। এই ঐতিহাসিক টাওয়ারের আর্কিটেক্ট হিসেবে পৃথিবী বিখ্যাত হেরিম আর্কিটেক্ট কাজ করছে। হেরিম পৃথিবীর সেরা সাতটি’র একটি এবং কোরিয়ার শ্রেষ্ঠ আর্কিটেক্ট প্রতিষ্ঠান।

এদিকে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ পূর্বাচলে ‘বঙ্গবন্ধু ট্রাইটাওয়ার’ কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শনে এসেছিলেন। এ সময় তার সাথে মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, গণপূর্তের প্রধান আর্কিটেক্ট, চীফ ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রকল্প পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানিয়েছেন, সিবিডিতে নির্মিতব্য আইকনিক টাওয়ারে প্রতিফলিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু’র নেতৃত্বে আমাদের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে ৫২ তলা ভবন, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ৭১ তলা ভবন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র লিগ্যাসি স্মরণে ৯৬ তলা মিউজিয়ামসহ গড়ে উঠবে দেশের বৃহত্তম ১১১ তলা ভবন।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আইকনিক এই তিনটি ভবনের পাশাপাশি এখানে গড়ে উঠবে ৪০ তলার আরও ৪৯টি ভবন। প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বিদেশী বিনিয়োগের সংস্থান করা হয়েছে। প্রথম দুই বছরেই প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করা হবে যা দেশের অর্থনীতি ও নির্মাণ শিল্পে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী’র সাইট ভিজিট অনুষ্ঠানে পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস ও শিকদার গ্রুপ ছাড়াও এই কাজের সাথে যুক্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হেরিম, পিডাব্লিউসি, আর্কেটাইপ, নর, চায়না পাওয়ার, চায়না এনার্জি, এর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে