NarayanganjToday

শিরোনাম

রূপগঞ্জে তেল নিয়ে চলছে তেলেসমতি কারবার!


রূপগঞ্জে তেল নিয়ে চলছে তেলেসমতি কারবার!

রূপগঞ্জে শাহাদাৎ হোসেন (২৮) নামে এক চোরাই তেল ব্যবসায়ীকে আটক করে ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রæয়ারি) দুপুরের দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি বুধবার দুপুরের দিকে রূপগঞ্জের দড়িকান্দি ব্রিজের (গাজী সেতু) পূর্বপার্শ্বের স্থান থেকে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৮ সিলভার কালারের ড্রমে মজুদকৃত ৩শ ৩০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। সাথে জব্দ করা হয়েছে একটি পিকআপ ভ্যান। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ এই মামলায় আরও আটজনকে আসামী করেছে।

গ্রেফতার শাহাদাৎ হোসেন উপজেলার নলপাথর (নরাবুরটেক) এলাকার সিরাজুল সিকদারের ছেলে।

অন্যান্য আসামীরা হলেন, উপজেলার মৈকুলি পশ্চিম পাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ভূইয়ার ছেলে আব্দুল ইমাম ওরফে শান্ত (৩০), মুড়াপাড়া বাজারঘাট এলাকার মো. মিলন (৩৮), হামিদুল্লাহ (৩৪), খাদুন মধ্যপাড়া এলাকার মো. মাহফুজ (৩৫), সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর পেট্রোল পাম্পের পাশের তেলের দোকান মালিক মো. শরীফ (৩৮), এশিয়ান হাইওয়ের তেলের দোকানি হাশেম ওরফে নূরার ছেলে মো. হোসেন (৩২) এবং সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর এলাকার টাইগার মোমেন ওরফে টাইগার মমিন (৩৫)। তাদেরকে পলাতক দেখানো হয়েছে মামলার এজাহারে। তবে, মজার বিষয় হচ্ছে কাঁচপুর এলাকার টাইগার মোমেন ওরফে টাইগার মমিন তিন মাস ধরেই কারাবন্দী রয়েছেন।

তবে, পুলিশের তথ্যের সাথে প্রাপ্ত তথ্যের বিস্তর ফারাক রয়েছে। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে তেলসহ একজনকে আটক করলেও বাকীদেরকে এই ঘটনায় সম্পৃক্ত না থাকার পরও আসামী দেখানো হয়েছে। যা নিয়ে চলছে সমালোচনা।

এছাড়াও অভিযানের স্থান নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। পুলিশের দাবি রূপগঞ্জের দড়িকান্দি ব্রিজের (গাজী সেতু) পূর্বপার্শ্বের স্থান থেকে শাহাদাৎকে আট করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে রূপসী থেকে তাকে আটক করা হয়েছিলো। এবং আট ড্রাম পুলিশ দেখালো সেখানে তেলের পরিমাণ কমিয়ে ফেলা হয়েছে। সূত্রের দাবি, প্রতি ড্রামে ২শ ২০ লিটার করে তেল ছিলো কিন্তু পুলিশ এজাহারে সর্বমোট ৩২০ লিটার ডিজেল দেখিয়েছে।

পুলিশ এজাহারে দাবি করেছে, শাহাদাৎকে গ্রেফতার করার সময় উল্লেখিত অন্যরা পালিয়ে যায়। তবে, স্থানীয় সূত্র বলছে, পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেকেই তেল ব্যবসায়ী হলেও তারা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নন এবং ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। শুধু তাই নয়, শাহাদাৎ হোসেনকে আটকের পর বুধবার দিনভরই থানাতে চলে দেনদরবার। মামলা না দেওয়ার শর্তে চাওয়া হয়েছিলো ৮ লাখ টাকা। তবে, আটক শাহাদাতের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। কিন্তু পুলিশ এতে রাজি না হওয়াতে পরবর্তীতে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনা যা পুলিশ তাই করবে, যারা যে ঘটনায় সম্পৃক্ত নয়, তাদেরকে সেসব ঘটনায় জড়িয়ে কোনো রকম মিথ্যা মামলা দেওয়া হবে না, পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের এমনই প্রতিশ্রæতি ছিলো। কিন্তু রূপগঞ্জ থানার ওসি এসপির সেই প্রতিশ্রæতি মত কাজ না করে উল্টোটা করেছেন।

এদিকে এ ব্যাপারে জানতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি রিসিভ করেন শাহীন নামে জনৈক ব্যক্তি। তিনি জানান, স্যার একটু মিটিং করছে। ব্যস্ত রয়েছেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে