NarayanganjToday

শিরোনাম

হাইকোর্টের রায়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে নিষিদ্ধ হলো জুয়া


হাইকোর্টের রায়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে নিষিদ্ধ হলো জুয়া

অবশেষে নারায়ণগঞ্জের এলিটদের ক্লাব হিসেবে পরিচিত ‘নারায়ণগঞ্জ ক্লাব’য়ে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা বন্ধের রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। দ্রুত সময়ের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে দেশের আরও ১২ টি অভিজাত ক্লাবেও টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা বন্ধের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রেদওয়ান আহমেদ রানজীব বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ ক্লাব ও ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি ক্লাবে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। অন্যান্য ক্লাবগুলো হলো, গুলশান ক্লাব, বনানী ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা, ঢাকা লেডিস ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাব গুলশান, চিটাগাং ক্লাব, চিটাগাং সিনিয়র্স ক্লাব ও খুলনা ক্লাব।

রুলে জুয়া জাতীয় অবৈধ ইনডোর গেম যেমন, কার্ড, ডাইস ও হাউজি খেলা অথবা এমন কোনো খেলা যাতে টাকা বা অন্য কোনো বিনিময় হয়ে থাকে তা বন্ধের নির্দেশনা কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চান আদালত।

স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার ঢাকা, খুলনা ও সিলেট এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৬, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮ এবং পাবলিক গেম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭ অনুযায়ী কোনো প্রকার জুয়া খেলা দÐনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে সংবিধানের ১৮ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারকে পতিতাবৃত্তি ও জুয়া খেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি তানভির মাহমুদ টিটুর মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সেটি রিসিভ করেননি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো রকম বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

প্রসঙ্গত, ২৩ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ ক্লাবসহ দেশের ১৩টি ক্লাবে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা বন্ধে জারি করা রুলের ওপর চ‚ড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। পরে ওই দিন রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করেন। পরবর্তীতে রায়ের দিন পিছিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি (রোববার) ধার্য করেন হাইকোর্ট।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে