NarayanganjToday

শিরোনাম

কে কোন স্টাইলে খেলতে চায় মাঠ ছেড়ে দিয়ে দেখতে হয় : শামীম ওসমান


কে কোন স্টাইলে খেলতে চায় মাঠ ছেড়ে দিয়ে দেখতে হয় : শামীম ওসমান

‘রাজনীতি একটা কৌশল, এই কৌশলে অনেক সময় অনেক ধরণের কৌশল করতে হয়’ মন্তব্য করে সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, অনেক সময় মাঠ ছাড়তে হয়। দেখতে হয়, কে কোন স্টাইলে খেলতে চায়। আমরা রাজনীতি করতে আসছি। আমরা একটা পরিবার।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলের দিকে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় দিপু-পলু পরিষদের পূর্ণ প্যানেলের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর মোহসীন-মাহবুবু প্যানেলের সাথে মিলিয়ে দেওয়ার সময় ওই কথা বলেন তিনি।

‘যখন রাজনীতিতে আসছি তখন এই আশা করে আসি নাই যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক। তখন নেত্রীও যে দেশে ফিরবে তা জানতাম না’ উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেছেন, ৭৫ এ আমরা সেভেন এইটের ছাত্র ছিলাম। এবং ৭৯ তেই আমরা রাজনীতিতে চরম আকার ধারণ করেছিলাম। তখন সিনিয়র নেতারা বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যায় জিয়াউর রহমানের হাত ছিলো। তখন আমরা জিয়াউর রহমানের গাড়িও আটকে দিয়েছিলাম এবং প্রচণ্ড নির্যাতিত হয়েছিলাম।

‘৮১ সালে তোলারাম কলেজের ভিপি হই’ জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময় জিয়াউর রহমান সরকারের ১৯ জন মন্ত্রী তোলারাম কলেজে প্রবেশ করতে পারে নাই। এরপর ২৫ মে ঢুকে ৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই জায়গা থেকেই কিন্তু আমরা রাজনীতি করতে করতে আসছি। আমরা একটি পরিবার।

‘দিপু-শামীম-বাদল-খোকন-চন্দনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’ উল্লেখ করে শামীম ওসমান আরও বলেন, এই নামগুলোর মধ্যে পার্থক্য আছে কিন্তু আত্মার মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। আমার বিশ্বাস, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পার্থক্য আর হবে না।

‘কিছু কিছু জায়গা কখনো কখনো গ্যাপ হয়, একটা বড় দলের মধ্যে সেটা হতেই পারে’ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এক পরিবারে তিনজনের তিন রকম মত থাকতেই পারে। এই বার নির্বাচনই বলি, অনেক সময় যোগ্য লোক থাকতেও কৌশলের কারণে অনেক অযৌগ্য লোককে নির্বাচনে দিতে হয়। নির্বাচন একটা কৌশল, দলও একটা কৌশল। আমি তখন দেশের বাইরে ছিলাম। তখনই অনেক কিছু হয়ে গেছে।

দিপুকে নিজের ভাই সম্বোধন করে শামীম ওসমান বলেন, দিপুকে দিয়েই এই বারটা শুরু করেছিলাম আমরা। এই আদালত পাড়া একটি পবিত্র জায়গা। এখান থেকে মানুষকে ন্যায় পাইয়ে দিতে হয়। সেখান থেকে আমরা বারের দায়িত্ব নিতে কখনো পেরেছি। কখনো পারি নাই। তবে, গত কয়েক বছর সবার ঐকান্তিক চেষ্টায় সেটা পেরে যাচ্ছি। সুন্দর একটি বার ভবন হচ্ছে। সেলিম ওসমানের সহযোগিতায় এটি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকার থেকেও আমাকে ফোন করেছিলো। আমরা চাইলে কিছু পরিবর্তন করতে পারতাম। কিন্তু সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটা করতে চাইলে হয়তো আমাদের বিপক্ষ শিবির সেই সুযোগ নিতেও পারে। দিপুর সাথে আমার অনেকবার কথা হয়েছে। সে আমাকে যেভাবে গাইড দিয়েছে, বলেছে, শামীম ভাই আপনি জলদি আসেন। আমি সেভাবেই করেছি।

‘কালকে আমিও চলে যেতে পারি। আমরা একটি পরিবার। এই পরিবারের মধ্যে অনেকেই অনেক ভাবে টাকা পয়সা, বন্দুকের নল দেখিয়ে ভাঙনের চেষ্টা করেছে’ জানিয়ে সাংসদ আরও বলেন, হয়তো এই পরিবারের মধ্যে একটা আঁচর পড়েছে। কিন্তু কেউ ভাঙতে পারে নাই। আগামীতেও এই পরিবার কেউ ভাঙতে পারবে না। এই নির্বাচনে নিঙ্কুশ জয় নিয়েই প্রমাণ করবো, আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি।

তিনি বলেন, আমাদের এই পরিবারকে এক থাকতে হবে একটা স্বার্থে। নিজের ব্যক্তি স্বার্থে নয়। নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে। দিপুর সাথে অন্যকারো সাথে কম্পিয়ার করতে হলে আমার সাথে করতে হবে। এটা জুনিয়রদের কাছে শিক্ষণীয় এই সেক্রিফাইজ। কেউ যদি মনে করে খোকন সাহার সাথে, দিপুর সাথে আলাদা কথা বলে ভাগ করে ফেলবে, তাহলে সেটা ভুল। ভাগ হবে না। কেউ এমন আশা কইরেন না, আমরা ক্ষমতায় থাকলেও ভাগ হবে না, ক্ষমতায় না থাকলেও ভাগ হবে না।

এসময় অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু ও হাবিব আল মুজাহিদ পলু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাড. সামসুল আলম ভূইয়া, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এহসানুল হক নিপু, সাফায়েত আলম সানি প্রমূখ।

১৯ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে